জামালপুর জেলার ইসলামপুর গুঠাইল বাজার রক্ষা বাধটি বিগত দিনে যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। শুষ্ক মৌসুম পেরুলেও এখনও যমুনার নৌ-বন্দর নামে খ্যাত গুঠাইল বাজার রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। ফলে যমুনার পানি বাড়তে থাকায় ভাঙ্গন আতঙ্কে ভুগছে বাজারের ব্যবসায়ী মহলসহ এলাকাবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জামালপুর সূত্রে জানাযায়, ১৯৯৫ সালের শেষের দিকে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে গুঠাইল বাজার রক্ষায় জন্য ৬১০ মিটার দৈর্ঘ্য যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ (হার্ডপয়েন্ট) ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে যমুনার পানির স্রোতধারা সরাসরি আঘাত করায় নানাস্থানে ফলিং অ্যাপ্রোজের ধ্বস নামে।
পাউবো সূত্রে জানায়, গত বৎসর ২০০ মিটার ধ্বসে যাওয়া বাঁধের মেরামত কাজের জন্য ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় মেসার্স গুডম্যান এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত বৎসর ৭ মে কাজ শুরু করে ৩০জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে।
কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সদস্য শাহনেওয়াজ সরকার, চিনাডুলী ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস ছালামসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দুঃখে ব্যথিত হয়ে যমুনার ভাঙ্গন রোধে অর্থদান করেন। কিক্তু শুকনো মৌসুমে বাঁধ মেরামত না করে পাউবো ভরা বর্ষায় যমুনা নদীতে ভাঙ্গন শুরু হলে তড়িঘড়ি বালির বস্তা ফেলে থাকেন পাউবো। এ সময় পানির প্রবল স্রোতে বালির বস্তা অন্যত্র ভেসে যায়। ভাঙ্গন রোধের কোন কাজে আসে না। ফলে প্রতি বৎসর বাঁধ রক্ষার নামে কোটি কোটি টাকা সরকারী অর্থ গচ্চা যায়।
বর্তমানে ৬১০মিটার বাধের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ যমুনায় বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে গুঠাইল বাজার নৌ-বন্দর, গুঠাইল হাইস্কুল এন্ড কলেজ, গুঠাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুঠাইল মাদরাসা, মসজিদসহ অসংখ্য ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা, হাজার হাজার একর ফসলী জমি। সরে জমিনে দেখাগেছে,যমুনা নদীর পানি বাড়ছে,নৌ-বন্দর গুঠাইল বাজার সংলগ্ন বাঁধটি এখনও অরক্ষিত। যে কোন সময় বাজারের রক্ষা বাঁধটি ধ্বসে পড়লে বাজারটি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এব্যাপারে বাজার ব্যবসায়ী আসাদুল,আব্দুল করিম,শাহিন বলেন এবার ভাঙ্গন শুরু হলে বাজারটি যমুনায় বিলীন হবে। এতে করে হাজারও ব্যবসায়ী পথে বসবে।
এ ব্যাপারে জামালপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমার বলেন, প্রকল্প পাশ হতে অনেক দেরি হয়ে থাকে। দেরির জন্য বর্ষা এলে ভাঙ্গন শুরু হয়। তাই ভরা নদীতে ভাঙ্গনরোধে জিও ব্যাগ ফেলে রোধ করা হয়ে থাকে। তিনি আরো জানান গুঠাইল বাজার বাধ থেকে কুলকান্দি পর্যন্ত ৩৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনার তীর সংরক্ষণ কাজের একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর