জেলার কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৫টি স্থান ভেঙে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
সোমবার ভোরে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে ভোলানগর এলাকায় প্রায় ১০০ ফুট ও দুপুরে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে ৫০ ফুট এলাকা জুড়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। ফলে উপজেলার হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর, মাদানগর, ভূঁইগাঁও, আলীপুর, দত্তগ্রাম, সোনাপুর, ইসমাইলপুর, রনচাপসহ কমপক্ষে ২০টি গ্রামে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জুনাব আলী জানান, ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এই ভাঙনের পানি মৌলভীবাজার শহরে গিয়ে পৌঁছাবে। চাতলাঘাট এলাকায় দু থেকে আড়াইশ ফুট প্রতিরক্ষা বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক জানান, ইউনিয়নের মিয়ারপাড়া ও খন্দকারের গ্রাম এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। শত শত মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে ভাঙন রোধে চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে কমপক্ষে ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
কামারচাক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক সেলিম জানান, সেহরির পর কোন এক সময় ভোলানগর এলাকায় মুন নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে ভোলানগর, মিটিপুর, শ্যামর কোনা ও করাইয়ার হাওর এলাকায় কমপক্ষে ১৫ গ্রাম বন্যা কবলিত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফ হোসাইন জানান, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মাতারকাপন ও বাঁশতলা এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে কমপক্ষে ২০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুখলেছুর রহমান তালুকদার জানান, মনু নদীর ৪৪টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের মধ্যে ২৪টি স্থান দিয়ে পানি বের হচ্ছে। যেকোন সময় ভাঙন সৃষ্টি হতে পারে।
ইত্তেফাক/ইউবি