সিদ্ধিরগঞ্জের নারায়ণগঞ্জ-আদমজী ইপিজেড সড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কগুলোতে অবাধে চলাচল করছে অন্তত ২ সহস্রাধিক অবৈধ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। ইজিবাইকগুলো কোনো প্রকার কাগজপত্র ছাড়াই প্রশাসনের সামনে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এতে সড়কগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য যানজট। বেপরোয়াভাবে চলাচলের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনাও। এসব যানের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এ ছাড়া এসব ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জে ব্যয় হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুত্। এদিকে ইজিবাইককে পুঁজি করে একটি প্রভাবশালী মহল দৈনিক ৫০ টাকা হারে প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। মহলটি আর্থিক সুবিধা ভোগ করায় এ যানের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। ফলে এসব যানের চাপে নারায়ণগঞ্জ-আদমজী ইপিজেড সড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক স্থবির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগ।
জানা যায়, সড়কের উপরে ইজিবাইকগুলো এলোমেলো অবস্থায় রাখা, যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করানোর কারণে আদমজী ইপিজেডগামী শ্রমিক, চাকরিজীবী, স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা যানজটের কবলে পড়ে নাকাল হচ্ছে। যানজটের কারণে সময়মত কারখানায় যেতে পারছেন না শ্রমিকরা। এতে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা।
এ সড়কে চলাচলরত এসব ইজিবাইকগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। ফলে ইচ্ছে থাকলেও প্রশাসন এসব অবৈধ যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছে না। গতকাল শনিবার সকালে শিমরাইল মোড়ে ও সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকা থেকে প্রতিটি ইজিবাইক থেকে ৫০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করতে দেখা গেছে। চাঁদা আদায়কারীরা ৫০ টাকার স্লিপ ধরিয়ে দিচ্ছে চালককে, সঙ্গে সঙ্গে ইজিবাইকের সামনের গ্লাসে আদায়ের তারিখ লিখে দিচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদা আদায়কারীরা কথা বলতে রাজি হয়নি। পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে একজন জানায়, আব্দুস সামাদ বেপারী ও মাসুদ রানার নির্দেশে শিমরাইল ও সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকায় ১৫ থেকে ২০ জন চাঁদা আদায়কারী নিয়োজিত রয়েছে। চাঁদা আদায় করার পারিশ্রমিক হিসেবে তাদেরকে দৈনিক ৫০০ টাকা ও দুপুরে খাবারের জন্য ১০০ টাকা দেওয়া হয়। কথা হয় মিজমিজি টিসি রোডে চলাচলরত ইজিবাইক চালক মামুনের সঙ্গে। তিনি জানান, এ সড়কেও চাঁদা দিতে হয়। না দিলে ইজিবাইক চলতে দেওয়া হয় না। মিজমিজি টিসি আঞ্চলিক সড়কে কমপক্ষে ৫ শতাধিক ইজিবাইক রয়েছে বলে জানান তিনি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আঞ্চলিক শ্রমিক লীগ সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারী ১৮ জন চাঁদা আদায়কারী থাকার কথা স্বীকার করে জানান, আদায়কৃত চাঁদা মালিক-শ্রমিক কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে ব্যয় করা হয়। আমি ওই সমিতির একজন উপদেষ্টা মাত্র।