দুই অধিনায়কই একমত হলেন যে, টসে জিতলে এখানে ব্যাটিং নেওয়া উচিত। টসে জিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা তাই করলেন।
শুরুতেই তিন ব্যাটসম্যান দ্রুত ফিরে আসায় এই সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে হচ্ছিলো। কিন্তু তামিম ইকবাল এক প্রান্তে দর্শনীয় এক ইনিংস খেলে খেলায় রাখলেন বাংলাদেশকে। তামিমের ৯৫ রানের ওপর ভর করেই আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ ৪৪.৩ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ১৮২ রান করলো।
জবাব দিতে নেমে ১৬ ওভারে ১ উইকেটে ৮৩ রান তুলেছিলো অস্ট্রেলিয়া। এরপর নামে বৃষ্টি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ আছে।
এর আগে ব্যাটিং শুরু করার পরপরই দুই প্রান্ত থেকে মিশেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও প্যাট কামিন্সের আক্রমণে নড়বড়ে হয়ে গেলো বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। সৌম্য সরকার ৩, ইমরুল কায়েস ৬ ও মুশফিকুর রহিম ৯ রান করে ফিরে এলেন। তামিম ইকবালও নিজেকে খুজে পাচ্ছিলেন না।
ইনিংসের ২২ ওভার চলে গেছে তখনও বিস্ফোরক বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের রান ৬৩ বলে ৩৪। শেষ পর্যন্ত তামিম খোলস খুললেন ময়জেস হেনরিকেসের দ্বিতীয় ওভারে। প্রথম বলটি খেললেন দেখেশুনে। পরে বলে যেন ক্ষেপে গেলেন, এগিয়ে এসে হাঁটু গেড়ে উড়ালেন কাভার দিয়ে। ম্যাচের প্রথম ছক্কা। তৃতীয় বলে এগিয়ে এসে পুল- মিড দিয়ে এলো চার।
সেই ওভারে শেষ ওভারে চার হাঁকিয়ে গেলেন অর্ধশতকের কাছে, দলকে এনে দিলেন ১৬ রানের বড় ওভার।
ট্র্যাভিস হেডের বলে সিঙ্গেল নিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছানোর সময় তামিম খেলেছেন ৬৯ বল। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৫টি চার আর একটি ছক্কা। আগের ম্যাচেই দারুণ এক শতক করা তামিম দলকে পথ দেখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও।
ট্যাভিস হেডের ওই ওভারটি হতে যাচ্ছিল বাংলাদেশের। টানা দুই বলে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। তবে দলকে চাপে ফেলে সেই ওভারেই এলবিডব্লিউ হয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান। তাতে ভাঙল ১৩.৩ ওভার স্থায়ী ৬৯ রানের জুটি।
অফ স্পিনারের বলে অনেকটা এগিয়ে খেলার পরও আম্পায়ার নাইজেল লং আউট দেওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নিয়েছিলেন সাকিব। প্যাডে লাগার সময় বলের কিছু অংশ অফ স্টাম্পের বাইরে ছিল। তবে আম্পায়ার আউট দেওয়ায় পাল্টায়নি সিদ্ধান্ত। ৪৮ বলে দুটি চারে ২৯ রান করে ফিরেন সাকিব।
পরপর মাত্র ৮ রান করে ফিরে আসেন সাব্বির রহমান রুম্মন। এরপর তামিমের সাথে জুটি বাঁধা রিয়াদও ফেরেন ৮ রান করে।
এক প্রান্তে ভরসা হয়ে একাই লড়েছেন তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত দলের রান বাড়াতে গিয়ে বেমক্কা এক শট খেলে আউট হয়েছেন সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতে। ১১৪ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৯৫ রান করে ফিরেছেন তিনি।
তামিম আউট হলেন দলের স্কোর ১৮১ থাকা অবস্থায়। ওই একই স্কোরে মিশেল স্টার্ক তুলে নিলেন ৩ উইকেট। আর ১ রান যোগ হতে পরের ওভারে এসে স্টার্কই শেষ করে দেন বাংলাদেশের ইনিংস।
ইত্তেফাক/আনিসুর