গাজীপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় পুলিশের এক দারোগাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গত ২৫ মে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ পরোয়ানা জারি করেছেন।
যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার পশু হাসপাতাল রোডের জামাল উদ্দিনের ছেলে ও সিরাজদিখান থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান ও তার মাতা আনোয়ারা ইয়াসমিন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পুলিশের উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামানের সাথে ২০১৩ সালের ৪ঠা জুলাই ১০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে গাজীপুর মহানগরীর চত্বর এলাকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর জাহাঙ্গীরের মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ১১ লাখ টাকা খরচ করে টিভি, ফ্রিজ, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র মেয়ে-জামাতাকে প্রদান করেন।
পরবর্তী সময়ে বাড়ি করার জন্য জমি দাবী করলে তিনি সাড়ে ১৫ লাখ টাকা খরচ করে গাজীপুর মহানগরীর নীলের পাড়া এলাকায় মেয়েকে জমি ক্রয় করে দেন। কিন্তু মেয়ে জামাতা আসাদুজ্জামান চালাকি করে উক্ত জমি স্ত্রীর পরিবর্তে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। পরবর্তী সময়ে দারোগা আসাদুজ্জামান ফ্ল্যাট ক্রয় করার জন্য আরো ৫০ লাখ টাকা দাবী করে তাহমিনা আক্তারের উপর পরিবারের অপর সদস্যদের সহযোগিতায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে।
এক পর্যায়ে দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় আসাদুজ্জামান গোপনে শিলা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে। এসবের প্রতিবাদ করায় উক্ত দারোগা তাহমিনা আক্তারকে মারধর করে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। এ বিষয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করার সময় উক্ত দারোগা তাহমিনা আক্তারকে ঘরের দরজা আটকে জখম করে। এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করতে গেলে আসামি পুলিশের দারোগা হওয়ায় থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উক্ত দারোগা ও তার পিতা, মাতা, দ্বিতীয় স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি তদন্ত করে গাজীপুরের সিনিয়র সহকারী জজ ইসমেত জিহান দারোগা আসাদুজ্জমান ও তার মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় মর্মে গত ২১ মে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
ইত্তেফাক/জামান