উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ৫৫ এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এবার ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিদ্রোহী প্রার্থী এবং যে সকল মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতা সংগঠনের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে যারা কাজ করেছেন তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর প্রতিবেদন তৈরি ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ২৯ মার্চ গণভবনে অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়ামের এক সভায় নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সূত্র জানিয়েছে, দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন এবং নিজেদের পছন্দের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য প্রভাব বিস্তার করেছেন এমন ৫৫ জন এমপির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেয়া হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

চার ধাপে ৪৪৪টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অধিকাংশ উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে ১৩৬টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলের কোনো নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তাদের বিদ্রোহী হিসেবে ধরে নেয় আওয়ামী লীগ। এসব বিদ্রোহীদের মধ্যে অনেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদেও রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সেই সিদ্ধান্তও আসবে কাল। রবিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমন্ডলীর বৈঠক শেষে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি জানান, কেন্দ্র তৃণমূলের সব কিছু নজরে রাখছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যেসব মন্ত্রী-এমপিরা অবস্থান নিয়েছিলেন বা নিচ্ছেন, তাঁদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ৮ সাংগঠনিক সম্পাদক এই তালিকা করে জমা দিলে দলের কার্যনির্বাহী কমিটি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। আগামী ৫ এপ্রিল দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিদ্রোহী এবং বিদ্রোহীদের পক্ষাবলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে।

জানা গেছে, বিএনপি যেহেতু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, সেই কারণে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না-এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট ছিল। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ উন্মুক্ত রাখা হয়। তাই অনেকে ধরেই নিয়েছিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এজন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হন। আওয়ামী লীগের তিনজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্রোহী এবং বিদ্রোহীদের পক্ষাবলম্বনকারীদের তালিকা করা হয়েছে। বিদ্রোহীদের পক্ষাবলম্বনকারীদের মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রীও আছেন।