অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত ২১

অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈড় ও মোহনপুর গ্রামে গত দুই দিনে ৪ শিশু ও মহিলাসহ ২১ ব্যক্তি অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি চিকিৎসক দল ওই গ্রামে রোগীদেরকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার উক্ত দুটি গ্রামে ১৩ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত করা হয়। বুধবারে আরও ৮জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। 
 
অসুস্থ গরুর মালিক সেরাজুল ইসলাম আরিফকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
        
স্থানীয় লোকজন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলা থেকে ২৫ মে মোহনপুর গ্রামের রোকেয়া বেগম (৪৫) ও কামরুল ইসলাম (১৪) অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে বাড়িতে আসার ১ সপ্তাহ পর অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হন। পরে গত ২৯ মে কালিয়াকৈড় গ্রামের সেরাজুল ইসলাম আরিফ তার একটি অসুস্থ ষাঁড় জবাই করে কমমূল্যে গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিক্রি করে। এই মাংস যারা জবাই, কাটা, বণ্টন ও খেয়েছেন তাঁদের সকল পরিবারের লোকজনই পর্যায়ক্রমে অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত লোকজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল একধরনের ফোসকা ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে রয়েছে জ্বর ও ব্যথা।
 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাফরুল ইসলাম জানান, তাঁর নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল গত দুই দিনে মোহনপুর ও কালিয়াকৈড় গ্রামে মোট ২১ ব্যক্তিকে অ্যানথ্রাক্স রোগ আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এদেরকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডা. জাফরুল আরও জানান, যারা অসুস্থ গরুর মাংস খেয়েছেন তারা প্রত্যেকেই অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হতে পারেন। ফলে বিশেষ করে কালিয়াকৈড় গ্রামে অ্যানথ্রাক্স রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 
 
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মমর্তা হেলাল উদ্দিন খান জানান, অসুস্থ গরুর মালিক কালিয়াকৈড়ের সেরাজুল ইসলামকে উল্লাপাড়ায় মঙ্গলবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সরকার তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এদিকে কালিয়াকৈড় ও মোহনপুর গ্রামে কৃষকদের গরুগুলোকে অ্যানথ্রাক্স রোগ প্রতিরোধে ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজনকে সচেতন করতে পুরো এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/এমআই