ব্যবসায়ী টিপু সুলতানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড থেকে ঋণ নিয়ে আড়াইশ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাররীন ভেজিটেবল অয়েল লি: এর চেয়ারম্যান টিপু সুলতানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন— মাররীন ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহির আহমেদ, আগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের আগ্রাবাদ শাখার সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা ত্রিপাদ চাকমা, শাখার সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রামিজ উদ্দিন, সাবেক ডিজিএম ও শাখা ব্যবস্থাপক বেলায়েত হোসেন।

দুদক সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম হতে চট্টগ্রামের নূরজাহান গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মাররীন ভেজিটেবল অয়েলস লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ ২০১১ সালের ১০ মার্চ মালয়েশিয়া/ইন্দোনেশিয়া হতে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ‘ক্রুড পামওলিন’ আমদানিকল্পে ২০% মার্জিনে ১২০ দিন মেয়াদে প্রায় ৩ হাজার ২শ ৭০ কোটি টাকার ঋণপত্র এবং মার্জিন অবশিষ্ট ২৬১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার টিআর ঋণ মঞ্জুরের আবেদন করেন। ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার তত্কালীন সিনিয়র অফিসার ত্রিপদ চাকমা এবং সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. রমিজ উদ্দিন এ সংক্রান্ত ঋণ প্রস্তাব প্রস্তুত করেন। উক্ত ঋণ প্রস্তাব ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ ক্রেডিট কমিটির সুপারিশ/মতামতের আলোকে অনুমোদন প্রদান করে। এ প্রেক্ষিতে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হতে মঞ্জুরিপত্র প্রদান করা হয়। উক্ত মঞ্জুরিপত্রে ‘মেসার্স মাররীন ভেজিটেবলসের অনুকূলে ২০১১ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে মেসার্স মাররীন ভেজিটেবল অয়েলস লি: এর অনুকূলে ৮টি টিআর (ট্রাস্ট রিসিট) এবং ৩টি পিএডি (পেমেন্ট এগেইনস্ট ডকুমেন্ট) লোন বাবদ মোট ২শ ৮০ কোটি ৭২ লাখ ৩৮ হাজার ৩শ ৭৩ টাকা বিতরণ করা হয়।

মঞ্জুরিকৃত ঋণপত্রের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট শাখায় মোট ১১টি আমদানি দলিল গৃহীত হয়। যার মধ্যে ঋণ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ৮টি আমদানি দলিলের প্রয়োজনীয় মার্জিন ব্যাংকের শাখায় জমা করে মূল দলিল দিয়ে আমদানিকৃত মালামাল ডেলিভারি নেয়। তবে অবশিষ্ট ৩টি আমদানি বিলের মূল দলিল ব্যাংকের শাখায় সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় প্রতারণার মাধ্যমে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ৯৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল চট্টগ্রাম কাস্টমস হতে ছাড় করে। ঋণ উত্তোলনকালে মার্জিন ও অন্যান্য খাতে মোট ২২ কোটি ১৬ লাখ ২২ হাজার টাকা জমা প্রদান করে। এবং অবশিষ্ট ২শ ৫৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৬ হাজার ৩শ ৭৩ টাকা আত্মসাত্ করেন।

দুদক সূত্র আরো জানায়, অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নূরজাহান গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মাররীন ও জাসমীর ভেজিটেবল অয়েলস লি: এর নিকট অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ২০১১ সালে ১লা মে পর্যন্ত মোট ২৩৩ কোটি ৫১ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ অনাদায়ী ছিল। কিন্তু উল্লিখিত ঋণ অনুমোদনের অনিয়ম করে ২শ ৮০ কোটি ৭২ লাখ ৩৮ হাজার ৩শ ৭৩ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনে’র গাইডলাইনে সহায়ক জামানত হিসেবে সহজেই নগদায়নযোগ্য তরল সম্পদ অথবা কেবলমাত্র শহর এলাকায় অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি (ক্রেডিট সুবিধার পরিমাণের দ্বিগুণ মূল্যের সম্পত্তি) জামানত রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা অনুসরণ না করে জামানত হিসেবে শুধুমাত্র টিআর এর সমপরিমাণ চেক (অগ্রিম তারিখ সম্বলিত) গ্রহণ করেই উক্ত ঋণ প্রদান করা হয়। কিন্তু গ্রাহকের একাউন্টে প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় উক্ত চেক নগদায়ন করে ঋণের টাকা আদায় করা সম্ভব হয়নি। বর্ণিত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের নিকট কোনো সহায়ক জামানত না থাকায় এবং উক্ত ঋণের টাকা আদায় করতে না পারায় সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের তত্কালীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে অথবা অন্যকে আর্থিকভাবে লাভবান করার অসত্ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান অনুসরণ না করেই ‘মেসার্স মাররীন ভেজিটেবল অয়েলস লি:’ এর অনুকূলে উক্ত ঋণ বিতরণ করেন। এ সুযোগে ঋণ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ ঋণের টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণা, জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিং এর মাধ্যমে ২শ ৫৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৬ হাজার ৩শ ৭৩ টাকা আত্মসাত্ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া যায়।