পয়লা বৈশাখে উত্সবে মেতে উঠবার আগেই উত্সব শুরু হয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে। এখানে চলছে কর্মযজ্ঞ। ক’দিন বাদেই শুরু হচ্ছে নতুন বাংলা বর্ষ। পয়লা বৈশাখ উদযাপনে রাজধানীর সবচেয়ে বর্ণিল আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে আরো আগে থেকেই। এই কর্মযজ্ঞে শিল্পী শিশির ভট্টাচার্যের পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন চারুকলার নতুন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও।
এবারের উত্সবের থিম নেওয়া হয়েছে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পংক্তি থেকে। ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’- এ প্রতিপাদ্যে এবার সকল মঙ্গল প্রতীকের নকশা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে চারুকলা অনুষদের ডীন শিল্পী নিসার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাথা তুলে দাঁড়াবার, সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানোর প্রয়াস এ স্লোগানে। সব বাধা পেরিয়ে অনন্ত সম্ভাবনার সামনে তরুণ প্রজন্ম। তাদের ইতিবাচক অগ্রগতিই দেশকে প্রকৃত উন্নয়ন এনে দেবে। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশকে তুলে ধরবে। সেই লক্ষ্য থেকেই এবছর এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিসার হোসেন জানান, সেজন্যই এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতীকটি হচ্ছে পঙ্খীরাজ ঘোড়া। যার মুখটা হবে মানুষের মতো। রূপকথার আশ্রয়ে তরুণদের ঊর্ধ্বপানে চাইবার এবং চলবার আহ্বান জানানো হবে এর মাধ্যমে। তিনি আরো জানান, অনন্তের পানে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীককে তুলে ধরতে এবার মঙ্গল প্রতীকে পাখিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আমাদের লোকজ মোটিফের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতীক তো থাকবেই। থাকবে মুখোশ।
শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে একদল শিক্ষার্থী বসে সরা আঁকছেন। কর্মযজ্ঞ চলছে অনুষদের পুরো চত্বর জুড়ে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ছবি আর সরা বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। জয়নুল গ্যালারির একটিতে এখন চলছে বড় মুখোশ বানানোর কাজ। ছাত্র-শিক্ষক সবাই একজোট হয়ে কাজ করছেন—দম ফেলার ফুরসত নেই কারো। অনেকেরই কাটছে নির্ঘুম রাত। সরা, ছবি আর মুখোশ বিক্রি করে উঠছে মঙ্গল শোভাযাত্রার খরচ।
প্রসঙ্গত, যশোরে চারুপীঠের আয়োজনে ১৯৮৫ সালে প্রথম শুরু হয় বর্ষবরণের শোভাযাত্রা। এরপর ১৯৮৯ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা ঢাকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করেন। এরপর থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। গত কয়েক বছর ধরে নববর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী প্রায় ১০০টি স্থানে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হচ্ছে। সেই গুটি গুটি পা করে শুরু করা মঙ্গল শোভাযাত্রা ২০১৬ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।