প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে চাই নতুন কাপড়। সামর্থ্য কম, তাই নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের কেনাকাটায় ফুটপাতই ভরসা। ঈদ ঘিরে বিক্রি বাড়ছে নগরের ফুটপাতের দোকানে।
ফুটপাত দখল শেষে সড়ক দখলে নিয়েছে অনেক হকার। অথচ কেনা-বেচার এমন ভরা মৌসুমে নগরীর সিটি মাধবী প্লাজার পাশে হকারদের জন্য বরাদ্দকৃত মার্কেটের বেশির ভাগ দোকানই বন্ধ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছে, এমন হকারদের গুদাম ঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে হকার্স মার্কেটের এই বন্ধ দোকানগুলো। আবার কেউ কেউ অন্য দোকানির কাছে ভাড়া দিয়ে রেখেছে, অনেকে করেছে পজিশন বিক্রিও।
তবে হকারদের ফুটপাত দখলের পিছনে সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশের সমন্বয়হীনতাকেই দায় করেছেন খোদ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী। আর ফুটপাত দখলকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী নিজেও! তবে তার এই সমর্থন সত্যি কী সমর্থন নাকি হকার উচ্ছেদ করতে না পারায় ক্রোধযুক্ত?
সে প্রশ্নটিও থেকে যাচ্ছে। কেননা, তিনি বলেছিলেন, 'হকার উচ্ছেদ করতে না পারলে পদত্যাগ করবেন।' আবার অভিযোগও করেছিলেন যে, প্রশাসন থেকে হকার উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোনো রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে না।
বরাদ্দকৃত দোকান বন্ধ রেখে ফুটপাত দখলের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মাহমুদুর রহমান হাবিব বলেন, 'বরাদ্দকৃত দোকানগুলো অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছেন অনেকে। আমরা যখন এই হকারদের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করি, তখন তারা ওই সকল দোকানে ও গলিগুলোতে মালামাল নিয়ে রাখেন।'
উচ্ছেদ অভিযানের টিম চলে যাওয়ার সাথে সাথেই আবার তারা চলে আসে। অনেকটা ইদুর বিড়াল খেলার মতই। তাছাড়া এই হকারদের পিছনে শক্তিশালী মহল থাকায় উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশের সাথে সিটি করর্পোরেশনের সমন্বয়হীনতাকেও দায় করেন তিনি।
ফুটপাত উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে যোগাযোগের পরামর্শদেন সিটি করপোশেনের প্রধান এই কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে জানতে মেয়র আইভীর সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, 'দখল করেছে খুব ভালো করেছে। আরো দখল করুক। ঠিক আছে?' এই বলেই ফোনের লাইন কেটে দেন।
ইত্তেফাক/জামান