চলমান আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার রাস্তাটা মোটেও সহজ নয়। আগামীকাল শুক্রবার কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনসে নিউজিল্যান্ডকে শুধু হারালেই চলবে না, পরদিন এজবাস্টনের বার্মিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়ও কামনা করতে হবে। আর সাথে রান রেটের মারপ্যাঁচ তো আছেই।
নিঃসন্দেহে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জীবন বাজি রেখেই মাঠে নামতে হবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলকে। যদিও এর আগে বাংলাদেশকে অভয় দিলেন নিউজিল্যান্ডেরই এক কিংবদন্তি। তিনি আর কেউ নন, সাবেক অধিনায়ক-ওপেনার স্টিফেন ফ্লেমিং। নিউজিল্যান্ড তাদের ইতিহাসে একবারই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছিল। সেটাও আবার ২০০২ সালে সৌরভ গাঙ্গুলি, শচিন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়দের শক্তিশালী ভারতকে ফাইনালে হারিয়ে। সেবার অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড ছিল এই ফ্লেমিংয়ের হাতেই। ফলে, ফ্লেমিং যখন কিছু বলেন তখন তাকে গুরুত্ব সহকারে নিতেই হয়। ফ্লেমিং ইএসপিএন ক্রিকইনফো আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো ভালো কিছু দেখাবে। অবশ্যই বাংলাদেশ সেমি ফাইনালে যেতে পারে।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির গ্রাফটা স্পষ্ট। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আসার আগেও আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে হারিয়ে এসেছে এই নিউজিল্যান্ডকেই। মাশরাফি-সাকিবদের এই উন্নতির প্রশংসা করে এই কিংবদন্তি বলেন, ‘ওরা নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়ে আইসিসি র্যাংকিঙয়ের ছয়ে উন্নতি হয়েছে। দুই-তিন বছর আগে তারা যে কোনো টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচে ভালো করতো এবং বাকি ম্যাচগুলোতে যাচ্ছেতাই খেলত। কিন্তু এখন তারা সেই দুঃসময় পেছনে ফেলে এসেছে।’
আগামীকাল শুক্রবার নিউজিল্যান্ড যখন বাংলাদেশের মোকাবেলা করবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ব্ল্যাকক্যাপ বোলাররা বাড়তি নজর দেবেন তামিম ইকবালের দিকে। ১২৮ এর পর ৯৫ - চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আসা কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকাররা মুগ্ধ এই বাঁ-হাতি ওপেনারের ব্যাটিংয়ে।
স্কাই স্পোর্টসের সাথে যুক্ত থাকা সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং তামিমের ব্যাটিংয়ে আরো কার্যকর করার কৌশল জানালেন। এক অনুষ্ঠানে তামিমকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বরাবরই ওর ইনিংসে বাউন্ডারির সংখ্যা বেশি। কিন্তু সিঙ্গেলস বের করে ডট বল কমানোর দিকে ওকে মনোযোগ দিতে হবে।’
প্রথম ম্যাচে তামিমের স্ট্রাইক রেট ৯০.১৪, দ্বিতীয় ম্যাচে ৮৩.৩৩। সিঙ্গেল বের করতে পারলে নি:সন্দেহে স্ট্রাইক রেট বাড়তো। যদিও, তামিমের ব্যাটিংয়ের অন্য সবদিক নিয়ে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘তামিমের হাতে প্রচুর শট। ফাস্ট বোলারদের রীতিমত শাসন করেছে ও। স্পিনারদের বিপক্ষে ফুটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে দারুণ রান করেছে।’
৬৪, ৪৭, ৬৫, ২৩, ১২৮ ও ৯৫ - শেষ ছয় ইনিংসে তামিম ইকবালের রান। তিনটা হাফ সেঞ্চুরি আর একটি সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচেও এই ধারাবাহিকতা থাকলে জয় পাওয়ার পথটা সহজই হবে বাংলাদেশের।
ইত্তেফাক/এমআর