প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাগযুদ্ধে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ঝড় পুরোদমে বইতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গে। গতকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি এবং কলকাতার ব্রিগেডে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে তুলোধুনো করেন নরেন্দ্র মোদি। ফুফু মমতা-ভাতিজা অভিষেক মিলে পশ্চিমবঙ্গ লুট করেছে অভিযোগ তুলে পরিবারতন্ত্র থেকে পশ্চিমবঙ্গকে মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে মমতাও ছেড়ে কথা বলেননি। কোচবিহারে নির্বাচনী সমাবেশে নরেন্দ্র মোদিকে ‘এক্সপায়ারি বাবু’ খেতাব দিয়ে বলেছেন, আগে দিল্লি সামলান, এরপর পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে ভাববেন।
গতকাল পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন নরেন্দ্র মোদি ও মমতা ব্যানার্জি। পশ্চিমবঙ্গে মোদির বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও পশ্চিমবঙ্গে কখনো বেশি ভালো করতে পারেনি বিজেপি। এছাড়া দলটির হার্টল্যান্ড হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোতে কংগ্রেসের কাছে এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে যাচ্ছে তারা। যে কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। সেই হিসাব মাথায় রেখে গতকাল দুটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মোদি। মমতাকে আক্রমণ করে মোদি বলেন, ত্রিপুরায় বাম সরকারকে আমরা সরাতে পেরেছি। পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূলকে সরাতে পারব। তারা গরিব মানুষের জন্য কিছু করেনি। উল্টো সারদা, নারদার মাধ্যমে টাকা লুট করেছে। মমতার সরকার পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরলেই সোনার বাংলা গড়ব। মোদি বলেন, মমতা পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে স্পিড ব্রেকার। এনআরসি নিয়ে দার্জিলিংয়ের গোর্খাদের ভুল বোঝাচ্ছে। গোর্খাদের কোনো ভয় নেই। তবে বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
কংগ্রেসকে আক্রমণ করে মোদি বলেন, পাকিস্তানে বিমান হামলায় তারা কষ্ট পেয়েছে। ভারতীয় সেনার মৃত্যুতে কষ্ট নেই। তারা জঙ্গি নিধনের প্রমাণ চায়। আমরা ভারতকে পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্ত করতে চাই। তিনি বলেন, ২৩ মে নির্বাচনের ফলাফলের দিন কংগ্রেসের ইশতেহারের মেয়াদ শেষ হবে। ৫৫ বছরের পরিবারতন্ত্রে গরিব, সাধারণ মানুষের গলা টিপে হত্যা করেছে দুর্নীতি।
অন্যদিকে মোদির সমাবেশে বক্তব্যের পর কোচবিহারের দিনহাটায় বক্তব্য দেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, মোদির সরকারের মেয়াদ শেষ। তাকে আর প্রধানমন্ত্রী নয়, এক্সপায়ারি বাবু বলব। নরেন্দ্র মোদি দাঙ্গাবাজ, লুটেরা। সাহস থাকলে কোনো জনসভা বা টিভি চ্যানেলে মুখোমুখি বসুন। সব প্রশ্নের জবাব দেব। মমতা বলেন, ২৩ মের পর ভারতে বিজেপি বা কংগ্রেসের নয়, জনতার বিকল্প সরকার গঠিত হবে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ছিটমহলের সমাধান করেছি। ১১০০ কোটি টাকা খরচ করে ছিটমহলের বাসিন্দাদের উন্নয়ন করেছি। আর আসামে নাগরিকদের তালিকা (এনআরসি) করে ২২ লাখ হিন্দু, ২৩ লাখ মুসলিমের নাম বাদ দিয়েছে বিজেপি। ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭১ সাল পর্যন্ত যারা ভারতে এসেছেন, তারা সবাই ভারতীয়। বিজেপি এই সব মানুষের নাম বাদ দিচ্ছে।
এদিকে গতকাল আসামে এক জনসভায় জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বক্তব্য রাখেন। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় গেলে এনআরসি পাস হবে না। কংগ্রেস এনআরসির বিরুদ্ধে। বিভেদের রাজনীতি করে বিজেপি দেশ ভাগ করতে চায়।