বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ এমটি প্রডিওসার (নর্থ সি প্রডিওসার) এর তেজষ্ক্রিয়তার বিষয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন চেয়েছে হাইকোর্ট।
আগামী দশ সপ্তাহের মধ্যে পরমাণু শক্তি কমিশন, পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং কাস্টমস্ এর মেগাপোর্ট ইনিসিয়েটিভকে ওই প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশণ বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। এ ছাড়া ড্যানিশ শিপিং কোম্পানি মার্কস হতে ক্রয়কৃত জাহাজ এমটি প্রডিওসারের অনুকূলে প্রদত্ত ছাড়পত্র কেন বেআইনি ঘোষণা এবং মিথ্যা ঘোষণা দেয়ার কারণে বিক্রেতার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করেছে আদালত। তিন সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বর্জ্যবাহী জাহাজ এমটি প্রডিওসারকে আমদানি ও তীরে ভাঙার অনুমতি দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
রিটে বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের আদেশ অমান্য করে জনতা স্টিল মিল (শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ড) তেজষ্ক্রিয়তাযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্যবাহী এমটি প্রডিওসার (নর্থ সি প্রডিওসার) নামক জাহাজটি প্রায় ৫২ কোটি টাকা দিয়ে আমদানি করে। পরে শুরু করা হয় ভাঙার কার্যক্রম। প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত দায়সারাভাবে জাহাজটি সম্পূর্ণ পরীক্ষা না করেই পরিবেশ অধিদপ্তর জাহাজটি সৈকতায়নের সুপারিশ করে। এ ছাড়া ভাঙার ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরামর্শ রাখলেও তা উপেক্ষা করে আমদানিকারকের মাধ্যমেই জাহাজটি বর্জ্যমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া বেআইনি।
বেলা’র পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল শুনানি করেন। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সাঈদ আহমেদ কবীর। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেয়।
আদেশে জাহাজটির নিরাপদ ভাঙ্গা নিশ্চিত করতে আমদানিকারকের ব্যয়ে কেন নিরপেক্ষ বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়েও রুল জারি করে হাইকোর্ট।
ইত্তেফাক/ইউবি