জমে উঠছে ঈদ বাজার

শপিং মল জুড়ে পোশাকের হাজারো কালেকশন কিন্তু ক্রেতা নেই। রোজা শুরু হতে না হতেই যে জমজমাট বাজার শুরু হয়ে যায় ১১ রোজা পেরিয়ে গেলেও মানুষের ঈদ কেনাকাটায় সেই টান ছিল না। গতকাল ইফতারের পর থেকে চিরাচরিত ঈদের আমেজ দেখা গেল মার্কেটগুলোতে। ক্রেতার ভিড়ে জমে উঠেছিল ঈদ বাজার। সাপ্তাহিক ছুটি শুরুর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মানুষের ঢল নামে শপিংমলগুলোতে।

ঈদে তরুণীদের কাছে পছন্দের শীর্ষে থাকে সালোয়ার কামিজ। চাঁদনি চকে আন স্টিচ সালোয়ার কামিজের মূল বাজার। ঈদ বাজারের মূল চাপটা পড়েছে এখানেই। সবাই চায় ঈদের পোশাকটি হোক বিশেষ কিছু। ক্রেপ জর্জেট, জর্জেট কাপড়ে জারদৌসি কাজের প্রতি মেয়েদের আকর্ষণ সবসময়ই থাকে। ঈদ এলে তার চাহিদা যায় আরো বেড়ে। এবার এসব ডিজাইনের পোশাকের মধ্যে লং ও শর্ট কোটির ব্যবহার বেড়েছে। তার ওপরে জমাট সুতার কাজ। সেইসঙ্গে শর্ট কামিজের ট্রেন্ড অনেকটাই ফিকে হয়ে পড়েছে। ফিরে এসেছে লং কুর্তা। এর সঙ্গে শর্ট কোটির ডিজাইন। তবে এবার ঈদ গরমকালে হওয়ার কারণে তুলনামূলক হাল্কা রং ও ফ্লোরাল মোটিফের পোশাকেরও চাহিদা রয়েছে।

এছাড়া জনপ্রিয় ভারতীয় সিনেমার নামে এসেছে জমকালো কাজের সালোয়ার কামিজ। ‘বাহুবলী’ ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ এসেছে বাজারে। লম্বা ঝুলের কামিজের ওপরে লম্বা কুর্তা। এছাড়া ‘সুলতান’ সালোয়ার কামিজের লং কামিজের ওপরে শর্ট কোটি রয়েছে। আন স্টিচ এই সালোয়ার কামিজের দাম ১২ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

এ প্রসঙ্গে অঞ্জনস-এর প্রধান নির্বাহী শাহীন আহমেদ জানান,  এবার সেমি রং, লং সালোয়ার কামিজের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। এসব সালোয়ার কামিজের ডিজাইনে ঘের বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ফ্রক টাইপের প্রতিও আগ্রহ বেড়েছে মেয়েদের। গরদ, সিল্ক কাপড়ের চাহিদা উত্সবগুলোতে বেশি থাকে। তবে গরমকালের জন্য সুতি কাপড়ে ফ্লোরাল মোটিফের সালোয়ার কামিজের চাহিদা বেশি। তিনি জানান, ঈদ বাজারে যে চাপ হয় এখন পর্যন্ত তা হয়নি। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছি।

তরুণীদের ভিড় ছিল দেশের স্বনামধন্য বুটিক হাউগুলোতে। আড়ং, অঞ্জনস, রঙ, বিশ্ব রঙ, ইয়েলো, নয়ের এবং বসুন্ধরার দেশি দশ প্রভৃতি ফ্যাশন হাউজে সালোয়ার কামিজের প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল বেশি। এদিকে মেয়েদের পোশাকের জন্য নতুন করে পরিচিতি পেয়েছে ধানমন্ডির এম্পায়ার এডিসি মার্কেট। সেখানেও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের পোশাকের সংগ্রহ রয়েছে।

অবন্তি ও শ্রাবন্তি ঈদের পোশাক কিনতে এসেছে মায়ের সঙ্গে আড়ংয়ে। সুতার হাতের কাজ ও এমব্রডারি কাজের জামা পছন্দ করেছে শ্রাবন্তি; কিন্তু দাম একটু বেশি বলে জানান শ্রাবন্তির মা। তিনি বলেন, তার পরেও হয়তো এ দামেই কিনতে হবে। অবন্তি বলছে আমি অন্য মাকের্টে একটু দেখে তারপর কিনবো।  তবে তাদের পছন্দ সেমি রং কামিজ। আড়ংয়ে ঈদের পোশাকে তাঁত, অ্যান্ডি সিল্ক ও বিভিন্ন সুতি কাপড়ের দিকে ক্রেতাদের ঝুঁকতে দেখা যাচ্ছে। এবার রঙের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে মেরুন, জামরং, আকাশি, কমলা, রয়েল ব্লু, সবুজ সর্বোপরি উজ্জ্বল রঙেই পছন্দ করছে ছেলে মেয়ে উভয়েই।

চাঁদনি চকে আন স্টিচ সালোর কামিজ কিনতে এসেছিলেন ধানমন্ডির বাসিন্দা শারমিন হোসেন। তিনি বললেন, আন স্টিচ সালোর কামিজের ডিজাইনগুলো খুব সুন্দর। কিন্তু দাম বেশি। তাছাড়া খুব দরদাম করতে হয়। এর চাইতে ফ্যাশন হাউজগুলো থেকে রেডিমেড কেনা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের।

এবার ঈদে মেয়েদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শর্টস্লিভ ও স্লিভলেস সালোয়ার-কামিজ এবং ফুল স্লিভের লং কামিজ। এসব পোশাকে হাতের কাজের পাশাপাশি চুমকি, স্টোন, সুতো, হালকা ব্লক, ওভার অল কাজ, গলায় এবং হাতায় কাজ, ওড়নায় কাজ, কলকিতে কাজ, ওড়নায় অল ওভার কাজ, ব্লক ওড়না, হাতায় কুচি, পাইপিনের কাজ, অ্যাপলিক, এমব্রয়ডারি, পুঁতির কাজ ইত্যাদি। কাটিংয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন সহজেই চোখে পড়ে। গোল গলা, ভি-গলা এবং সেরোয়ানি গলার কামিজ দেদার বিক্রি হচ্ছে। লাল, কালো, কমলা, হলুদ, জাম গোলাপি, সবুজ, অরেঞ্জ রেড, গোল্ডেন, অরেঞ্জ পিঙ্ক, বাদামি, পিঙ্ক রঙের সালোয়ার-কামিজ ও ফতুয়া মেয়েদের সেরা পছন্দ। কামিজের গলা এবং হাতের পাইপিনের সঙ্গে ম্যাচ করে সালোয়ার করা হয়েছে। ওড়নাতে কামিজের সঙ্গে ম্যাচ করে প্রিন্ট করা হয়েছে। অ্যান্ডি সিল্ক এবং জয় সিল্কের নরমাল ও এক্সক্লুসিভ শর্ট কামিজের চাহিদা বেশি। শর্ট কামিজে ঘটি হাতা ও ম্যাগি হাতা মেয়েদের চাহিদার তুঙ্গে রয়েছে। এবার ঈদে মেয়েদের ট্রেন্ড সেমি লং কামিজের দিকে। এখনকার তরুণীরা আবহাওয়া, সময় ও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফুলস্লিভ সেমি লং কামিজই বেশি পছন্দ করছে।

ইত্তেফাক/নূহু