অধরা ট্রফির সন্ধানে হ্যালেপ

সিমোনা হালেপের দৃঢ় বিশ্বাস ফরাসি ওপেন জয়ের মধ্য দিয়ে নিজের প্রথম প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের বন্ধ্যাত্ব ঘুচাতে পারবেন তিনি। শুধু তাই নয়, নারী এককের ফাইনালে অবাছাই ইয়েলানা ওস্টাপেংকোর বিরুদ্ধে জিততে পারলে তিনি উঠে আসবেন বিশ্ব র‍্যাংকিঙয়ে এক নম্বরে।
 
ওস্তাপেংকোও কম যান না। কারণ ৩৪ বছরের মধ্যে প্রথম অবাছাই নারী খেলোয়াড় হিসেবে ফরাসি ওপেনের ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন বিশ্বের ৪৭তম এই খেলোয়াড়। যদিও এর আগে কখনো কোনো গ্র্যান্ড স্লামে তৃতীয় রাউন্ডের গণ্ডি পার হতে পারেননি।
 
বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে খেলাটি। দৃশ্যত এ লড়াইয়ে ফেভারিট ভাবা হচ্ছে হালেপকেই। তার জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারেন নিজের ম্যানেজার ভার্জিনিয়া রুজিচি। কারণ ১৯৭৮ সালের টুর্নামেন্টটি জয়ের সুবাদে তিনিই ফরাসি ওপেন জয়ী একমাত্র রোমানিয়ান।
 
তৃতীয় বাছাই হালেপ গত বৃহস্পতিবার চেক প্রজাতন্ত্রের কারোলিনা প্লিসকোভাকে ৬-৪, ৩-৬, ৬-৩ গেমে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন। অপরদিকে নিজের ২০তম জন্মদিনে সুইজারল্যান্ডের তিমেয়া বাসিনস্কিকে ৭-৬, ৩-৬, ৬-৩ গেমে হারিয়ে হালেপের প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হন ওস্টাপেংকো।
 
হালেপ তার ক্যারিয়ারে এখনো কোনো গ্র্যান্ড স্লাম জিততে পারেননি। তাই  ২৫ বছর বয়সী এই রোমানিয়াননি স্বপ্ন পূরণে নিজের জোরালো আত্মবিশ্বাসের কথা জানান জয়টির পরপরই। তাছাড়া ২০১৪ সালের প্যারিসের এ আসরটির ফাইনালে উঠেও মারিয়া শারাপোভার কাছে হেরে ফিরে যেতে হয়েছিল তাকে। সে স্মৃতি মাথায় রেখেও তিনি আশাবাদী তিন বছর পর আবার ফাইনালে যোগ দিয়ে তিনি ট্রফিটি জিততে পারবেন। পাশাপাশি এ জয়ে অ্যাঞ্জেলিকা কারবারকে সরিয়ে র্যাংকিং শীর্ষেও উঠে আসতে পারবেন তিনি।
 
রোমানিয়টি বলেন, ‘আমি দুটি লক্ষ্যে খেলব। প্রথমবারের মতো আমার গ্র্যান্ড স্লাম জয় ও বিশ্বের এক নম্বর হওয়ার জন্য। এটা বড় চ্যালেঞ্জ, বড় সুযোগও। আমি মনে করি জয়ের মতো মানসিকতা আছে আমার। আমি আশা করি সেও নিজেকে উজাড় করে দেবে, সব বলেই পাল্টা আঘাত করবে, আত্মবিশ্বাস নিয়েই খেলবে। তবে আমিও দৃঢ়ভাবে আত্মবিশ্বাসী।’
 
তিনি আরো বলেন, ‘আমি তার মোকাবেলায় প্রস্তুত। আমি প্রস্তুত আরেকটি ফাইনালের জন্য। হ্যাঁ, এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এটা বড় ব্যাপার। এটা হতে যাচ্ছে দারুণ ব্যাপার।’
 
অবাছাই ওস্টাপেংকো অবশ্য ফরাসি ওপেনের ফাইনালে ওঠাকেই বলছেন ‘একটা দারুণ উপহার’ হিসেবে। লাটভিয়ার হয়ে তিনিই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠলেন। সেমিফাইনালে তিনি সুইস বাসিনস্কির ২৮তম জন্মদিনটিকে মাটি করে দিয়েই নিজের কুড়িতমটি উদযাপন করলেন।
 
জয়ের পর তিনি বলেন, ‘আমি সত্যি খুশি আমার এ জয় নিয়ে। বিশেষ করে আমার জন্মদিনে। আমি মনে করি এটা দারুণ এক উপহার। এটা ছিল কিছুটা চাপের, তবে অতটা নয়। আমি ইতোমধ্যেই সেমিফাইনালে ছিলাম। তাই স্রেফ খেলাটা উপভোগ করে নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাই।’ বিবিসি/সুপারস্পোর্ট
 
ইত্তেফাক/এমআর