বাগমারায় মাদ্রাসা শিক্ষককে হত্যায় গ্রেফতার ১

 
রাজশাহীর বাগমারায় দুর্বৃত্তদের হাতে এক মাদ্রাসার শিক্ষক খুন হয়েছে। তার নাম আবুল কালাম আজাদ (৩৮)। তিনি উপজেলার দ্বীপপুর ইউনিয়নের খাঁপুর গ্রামের আলহাজ্ব মফিজ উদ্দীনের ছেলে এবং খাঁপুর দাখিল মাদরসার কম্পিউটার বিভাগের শিক্ষক বলে জানা গেছে। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
 
ওই ঘটনায় নিহতের বাবা আলহাজ্ব মফিজ উদ্দীন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে বাগমারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ নিহত মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে বলে বাগমারা থানার পুলিশ জানিয়েছেন।
 
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে আবুল কালাম আজাদ রাতের খাবার খেয়ে তারাবির নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যান। তারাবির নামাজ শেষে রাত ১০ টার দিকে তিনি বাড়ি ফেরার সময় খাঁপুর মাদ্রাসা মাঠেই দুর্বৃত্তরা শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের ওপর হামলা চালায়।  
 
দুর্বৃত্তরা লোহার শাবল দিয়ে প্রথমে আবুল কালাম আজাদের মাথায় আঘাত করে। ওই সময় আবুল কালাম আজাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং সেখান থেকে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। দৌঁড়ে পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো ছুরি তার পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সেই সময় এক প্রতিবেশী ওই দিকে গেলে আবুল কালাম আজাদের গুঙ্গানির শব্দ শুনতে পান এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আবুল কালাম আজাদের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে এলাকার লোকজন বিষয়টি বাগমারা থানার পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ রাতেই লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে রক্ত মাখা একটি শাবল ও একটি ছোরা উদ্ধার করেছে।
 
শনিবার সকালে পুলিশ ওই শিক্ষকের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ওই ঘটনায় নিহত পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। কী কারণে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা এখনো পুলিশ পরিস্কার ভাবে কিছুই বলতে পারছে না। খবর পেয়ে রাজশাহী সদর সার্কেল (এএসপি) আহম্মেদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের ধারণা, শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
 
বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ জানান, শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ হত্যার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে আটক করা সম্ভব হবে।
 
ইত্তেফাক/কেকে