মুন্সীগঞ্জে দু'পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, গুলিবিদ্ধ ৩

 
মুন্সীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে মাসুদ ঢালী (২২)  নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও তিনজন গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে সদর উপজেলার দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামে এই সংঘর্ষ বাধে।
 
এতে গুলিবিদ্ধ মো. তারিফ (২০) ও হৃদয়কে (২৫) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, গুলিবিদ্ধ সাইফুল খান (১৬) এবং আহত ইসলাম দেওয়ানকে (২২) মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ হৃদয়কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেফতার করেছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুইগ্রুপই আওয়ামী লীগের হলেও এই সহিংসতা মূলত এলাকার প্রভাব বিস্তার নিয়ে।
 
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সদর উপজেলার দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামে চরকেওয়ার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ভূইয়া আপসু গ্রুপ এবং বর্তমান চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান জীবন গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই সংঘর্ষ বাধে। এই দুপক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিবাদ চলছিল। শনিবার সকালে আপসু গ্রুপের লোকজন আকস্মিক হামলা চলালে সংঘর্ষ বাধে। নিহত মাসুদ ঢালী কৃষি কাজ করতো। সে দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামের মোফাজ্জল ঢালীর পুত্র। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সকালে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. ইফতিয়ার ইরফান মৃত ঘোষণা করেন। এই চিকিৎসক জানান, তার শরীরে বেশ কয়েকটি গুলি বিদ্ধ হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় মন্টু মেম্বার বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলার অভিযোগ দায়ের করেছে।
 
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, বিগত ইউপি নির্বাচন থেকেই এই বিরোধ। স্থানীয় সাংসদের এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির উপস্থিতিতে এই বিরোধ মিটিয়ে দেয়া হয়। মাসখানেক আগে এই দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এমনকি জেল হাজতে যায়। পরে উভয়ে মিলে মিশে আসামি জেল থেকে বের করে আনে। এতদিন ভালই ছিল। হঠাৎ আবার এই সহিংসতা বাধে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে থানার ওসি ও ডিবি ওসিসহ বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও আসামী গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/জামান