রাঙ্গামাটির লংগদু যুবলীগের নেতা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়ন (৩৪) হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাইনী নদী থেকে নয়নের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, রোনেল চাকমা (১৮) ও জুনেল চাকমা (৩০)। রোনেল চাকমা রাঙ্গামাটির লংগদু‘র এবং জুনেল চাকমা খাগড়াছড়ির বাবুছড়া এলাকার বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে জুনেল চাকমাকে চট্টগ্রাম ও রোনেল চাকমাকে দীঘিনালা থেকে তাদের আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরজন বাবু রাজ চাকমাকে এখনো আটক করতে পারেনি।
এদিকে আটককৃতদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শনিবার সকাল থেকে দীঘিনালার মাইনী নদীতে নয়নের মোটর সাইকেল ছয় ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে আসা নৌবাহিনীর ডুবুরি দল এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হয়েছে।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আলী আহম্মেদ খান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেন্টিগেজন অফিসার মঈন উদ্দিন চট্টগ্রাম নৌবাহিনী ডুবুরী দলের কমান্ডার লে.এম কবীর, পিবিআই এর ইন্সপেক্টর সন্তোষ চাকমা, দীঘিনালা থানার ওসি সামসুদ্দীন ভুইয়া, খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান, দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিস অফিসের কমান্ডার অমল বড়ুয়া, প্রশাসনের কর্মকর্তারা সকাল থেকে মাইনী নদী তীরে মোটর সইেকেল উদ্ধারে উপস্থিত ছিলেন।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আলী আহম্মেদ খান, জানান আটক কৃত রোনেল চাকমা ও জুনেল চাকমাকে জিঙ্গাসাবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে মোটর সাইকেলটি নতুন ছিল। মূলত মোটর সাইকেলের লোভে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার যুবলীগ নেতা নুরল ইসলাম নয়ন ও ভাড়ায় চালিত তার নিজের মোটর সাইকেল নিয়ে নিজের বাড়ী থেকে রওনা হয়ে খাগড়াছড়ি দীঘিনালা সড়কের চার মাইল এলাকায় গিয়ে পৌঁছুলে তাকে সেখানে খুন করা হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে চার মাইল এলাকা থেকে ঐ দিন তার লাশ উদ্ধার করে। এঘটনার জের ধরে ২জুন থেকে লংগদু এলাকায় কয়েকশ' পাহাড়ির ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ইত্তেফাক/জামান