ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মারাউয়ি শহরের দখল নিয়ে আইএস মিত্র জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ চলছে। এ অবস্থায় দেশটির সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য মার্কিন বিশেষ বাহিনী তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে তারা সরাসরি কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ নয়, তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে।
এদিকে জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে ফিলিপাইনের ১৩ মেরিন সেনা নিহত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর ৫৮ সদস্য নিহত হলো। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জো-আর হাররেরা জানিয়েছেন, মারাউয়ি শহর পুনরুদ্ধারে তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, শত্রু অবস্থানে দুইপক্ষের লড়াইকালে তাদের ১৩ মেরিন সেনা নিহত হয়েছে। পাশাপাশি এ লড়াইয়ে শতাধিক বিদ্রোহী যোদ্ধা ও অন্তত ২০ জন বেসামরিক নিহত হয়েছে।
ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী উন্নতমানের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও স্বল্পপরিচিত মউত জঙ্গিগোষ্ঠীর যোদ্ধারা নিজেদের হিংস্র শত্রু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী সোমবার ফিলিপাইনের স্বাধীনতা দিবস। ওই দিনের মধ্যে মারাউয়ি শহর মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে সামরিক বাহিনী। এদিকে দেশটির এই পরিস্থিতিতে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনী মারাউয়ি শহর পুনরুদ্ধারে তারা তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তা করছে।
প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে এর আগে ঘোষণা করেছিলেন, মার্কিন সৈন্য সেখানে এলে তা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। তাদেরকে ফেরত পাঠানো হবে। জঙ্গিরা মারাউয়ি শহর তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে সৈন্যদের প্রতিদিনই লড়াই চলছে। গত ২৩ মে থেকে জঙ্গিরা সেখানে প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। অপরদিকে শতশত জঙ্গি সেখানে আইএসের কালো পতাকা হাতে নিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করেই যাচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় ইসনিলিয়ন হাপিলন নিজেকে সেখানকার আমির ঘোষণা করেন। মূলত মারাউয়ি হচ্ছে মিন্দানাওয়ের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি দ্বীপ। এখানে মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি আলাদা রাষ্ট্র তৈরির দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তবে এর অধিকাংশই হচ্ছে ক্যাথলিক খ্রিস্টান। বিভিন্ন সময়ে এইসব খ্রিস্টান নাগরিকদের ওপর নানা অত্যাচারেরও অভিযোগ রয়েছে।
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে লে.কর্নেল জো-আর বলেন,এই প্রথমবারের মতো সেখানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী তাদের সাহায্য করছে। তবে তারা সরাসরি যুদ্ধ নয়, সৈন্যদের প্রযুক্তিগত সহায়তা করছে মাত্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্বৃতি দিয়ে তাদের সহায়তা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা কোন সামরিক কাজে এ সহায়তা করবেন না। ফিলিপাইন সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সহায়তা করছে। বিবিসি।
ইত্তেফাক/সাব্বির