কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে সাত শতাধিক নারী-পুরুষের বয়স্ক ভাতার টাকা কেটে নিয়েছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন। গত বৃহস্পতিবার ওই ইউনিয়নের বয়স্ক ভাতা ভোগী নারী-পুরুষদের জানুয়ারি থেকে মার্চ-এই তিন মাসের ১৫০০ টাকা প্রদান কালে প্রত্যেকের কাছ থেকে ইউনিয়ন চৌকিদার ফি বাবদ পঞ্চাশ টাকা করে কেটে নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে গোলজার হোসেন বলেন, ইউনিয়ন কর বাবদ এ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে তা বয়স্ক ভাতা থেকে সরাসরি কাটা হয়নি, চৌকিদাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওই টাকা নিয়ে এসেছেন।
জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এমদাদুল হক প্রামানিক বলেছেন, বয়স্ক ভাতা থেকে কোনও টাকা কেটে নেওয়ার এখতিয়ার চেয়ারম্যানের নেই। তিনি এটা করে থাকলে তা অমানবিক ও নিয়মবহির্ভূত হয়েছে।
অসহায় ও হতদরিদ্র বয়স্ক নারী-পুরুষের ভাতা থেকে টাকা কেটে নেওয়ায় ভাতা ভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বয়স্ক ভাতাভোগী কয়েকজন জানান, কয়েক মাস পর তারা বয়স্ক ভাতার টাকা পেলেও চেয়ারম্যান চৌকিদারের বেতন দেওয়ার কথা বলে বয়স্ক ভাতার টাকা থেকে প্রত্যেকের পঞ্চাশ টাকা করে কেটে নিয়েছে।
একজন নারী বলেন, ‘আমি বিধবা মানুষ। বয়স হয়া গেইছে, কাম-কাজ করবার পাই না। সরকার যে বয়স্ক ভাতা দেয় তাহে দিয়া কোনও রকমে খায়া বাঁচি আছি। সেই টাকারও যদি চেয়ারম্যান কাটি নেয় তাইলে হামাক ভাতা দিয়া কি লাভ।’
কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের এক বৃদ্ধ বলেন, ‘ভাতা নিবার যায়া দেখি হামার টাকা থাকি ৫০ টাকা করি কম দিবার লাগছে। আপত্তি জানাইলে চেয়ারম্যান কয় চৌকিদারের বেতন দেওয়ার জন্য টাকা কাটা হইছে।’
এদিকে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের টাকা আদায়ের রশিদে দেখা গেছে, কোনও স্বাক্ষর ছাড়াই প্রত্যেকের কাছে পঞ্চাশ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা চৌকিদারের বেতন বাবদ টাকা কর্তনের অভিযোগ করলেও টাকা রশিদে তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।
এ ব্যপারে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবেন্দ্রনাথ উরাঁও-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে দেখবো কি হয়েছে।’
ইত্তেফাক/আনিসুর