সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, মন্দার প্রভাব মোকাবেলায় দেশের অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং সোনারবাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দিন বদলের সনদ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এন্ড প্রাইভেট ইক্যুয়েটি অ্যাসোসিয়েসন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিইএবি)।
রবিবার বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলেনে সংগঠনের নেতারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। বিকল্প বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে সম্প্রসারণ ও গতিশীল করার জন্য বিকল্প বিনিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি সরকারের বিশেষ গুরুত্বারোপকে ভিসিপিইএবি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানায়।
বাজেটে বিকল্প বিনিয়োগ ব্যবস্থা-সম্পর্কিত ঘোষণার ফলে দেশের নতুন এ খাতটি শক্তিশালী হওয়ার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়নের গতি তরান্বিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করে। ভিসিপিএবি মনে করে- সরকারের প্রগতিশীল মনোভাবের ফলে ক্রমবিকাশমান এবং সম্ভাবনাময় এ খাতটি আরো এগিয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েসনের সভাপতি ও ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এর জেনারেল পার্টনার শামীম আহসান বলেন, এবারের জাতীয় বাজেটে তথ্য প্রযুক্তি খাতের জন্য বেশকিছু সুসংবাদ রয়েছে। এর মধ্যে আছে সফটওয়্যারের ওপর থেকে ভ্যাট বাতিল, আইসিটি ডিভিশনে ৩,৯৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উৎপাদনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের ওপর থেকে ভ্যাট কমানো।
সকল মন্ত্রণালয়ের তথ্য প্রযুক্তি খাতে ১১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরো বলেন, তথ্য প্রযুক্তি খাতের প্রায় সকল সাবসেক্টরে ট্যাক্স অব্যাহতি থাকা সত্বেও ই-কমার্স ব্যবসায় ৩৫ শতাংশ কর্পোরটে ট্যাক্স এ বাজেটে বাতিল না করায় এই সেক্টরের উন্নতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অর্থায়ন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এটি একটি নতুন আর্থিকখাত বিধায় এ খাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনেক সংশয় আছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটালের বিনিয়োজিত অর্থ ফেরত পেতে কমপক্ষে ৭-৮ বছর সময় লাগে। এ সময় তাদের টিকে থাকা খুব দুষ্কর। সুতরাং তাদেরকে কমপক্ষে ১০ বছরের জন্যে কর মওকুফ সুবিধা দেয়া উচিৎ। আমরা মনে করি- এই কর অবকাশ জাতীয় উন্নয়নের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় সরকারের পক্ষ থেকে অনেক বড় ধরনের সহায়তা। এই প্রসঙ্গে আমরা ভিসিপিইএবি-র পক্ষ থেকে দেশের উন্নয়নে অংশ নেয়ার আরো বেশি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
ভিসিপিইএবি মহাসচিব শওকত হোসেন বলেন, স্টার্ট আপরা ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোথাও থেকে আর্থিক সহায়তা পায় না। পৃথিবীব্যাপী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিই তাদের অর্থের যোগান দিয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশে স্টার্ট আপ বা উদ্ভাবনী উদ্যোগের স্বার্থে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের বিকাশ প্রয়োজন। বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল তিন ধরনের প্রকল্পকে তহবিল দেবে যেমন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অর্থাৎ দুই বছরের কম বয়সের উদ্যোক্তা, প্রাইভেট ইক্যুয়েটি অর্থাৎ দুই বছরের বেশি বয়সের উদ্যোক্তা এবং সবশেষে ইম্প্যাক্ট ফান্ড যা অর্থনৈতিক মুনাফার চাইতে আর্থসামাজিক উন্নয়নে অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করবে।
সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ভিসিপিইএবি মহাসচিব ও বিডি ভেঞ্চারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত হোসেন, ভিসিপিইএবি কোষাধ্যক্ষ ও ভিআইপিবি এর প্রধান নির্বাহী সহিদুল ইসলাম, ভিসিপিইএবি পরিচালক এবং মাসলিন ক্যাপিটালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালি-উল- মারূফ মতিন প্রমুখ।
ইত্তেফাক/ইউবি