গাজীপুরে জেমটেক্স লিংকেজ ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচারক ইমরান আহমেদকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র সারোয়ার-তামিম গ্রুপকে জঙ্গিবাদের জন্য অস্ত্র ও অর্থ যোগানোর অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় র্যাব সদস্যরা তার গাড়ি চালক শামীম মিয়া (২৯) কেও গ্রেফতার করে। গত শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এক বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও বেশ কিছু উগ্র মতবাদের বই উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, ব্যবসায়ী ইমরান আহমেদ জেএমবির কেন্দ্রীয় দাওয়াত বিষয়ক কমিটির শুরা সদস্য এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিমের দাওয়াতি আমির। তিনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক কেনার জন্য সংগঠনকে অর্থ যোগানোর পাশাপাশি জেএমবির সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছিলেন। গতকাল রবিবার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ এ দুজনের গ্রেফতারের ব্যপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
মুফতি মাহমুদ বলেন, জেএমবির শুরা সদস্য ইমরান ঢাকা মহানগর পশ্চিমের (গুলশান-বনানী-মিরপুর) দাওয়াতি শাখার আমির হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ঢাকা মহানগর ছাড়াও চট্টগ্রাম, বগুড়া, কুমিলা, কক্সবাজার এবং রাজশাহীসহ দশটি জেলার দাওয়াতি কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি আরো বলেন, বিশাল অর্থ সম্পদের মালিক ইমরান গোপনে বিভিন্নভাবে জঙ্গি অর্থায়ন করে আসছিলেন বলে র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১২ সালে ওবায়েদ নামে এক বন্ধুর মাধ্যমে আনসারুলাহ বাংলা টিমের নেতা জসিমউদ্দিন রাহমানীর সঙ্গে ইমরানের ঘনিষ্ঠতা হয়। রাহমানী পরে মাওলানা আব্দুল হাকিমের সঙ্গে ইমরানের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর মাওলানা হাকিমের মাধ্যমেই তার জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপে অন্তর্ভুক্তি এবং নন্দিপাড়া কোরআন সুন্নাহ একাডেমি মসজিদের খতিব শায়খ আরিফ হোসেনের সঙ্গে সখ্যতা। শায়খ আরিফ বর্তমানে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের কেন্দ্রীয় দাওয়াত বিষয়ক শুরা বোর্ডের আমির বলে ইমরান র্যাবকে জানিয়েছে।
র্যাব বলছে, ইমরান তার অফিস, গার্মেন্টস, ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে আসাদুলাহ গালিব, জসিমউদ্দিন রাহমানী, জুন্নুন শিকদার এবং আইএস এর প্রতীক সম্বলিত জঙ্গিবাদি বই সংরক্ষণ করতেন। তিনি ৩০টির বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিদেশ থেকে জঙ্গিবাদ বিষয়ক বই সংগ্রহ করেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইমরান আহমেদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান র্যাবকে জানিয়েছে, তিনি জেএমবির সামরিক শাখার জন্য অস্ত্র ও বিস্ফোরক কেনার অর্থ যুগিয়েছেন এবং কারাগারে থাকা জেএমবি সদস্যদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছিলেন। এছাড়া জুন্নুন শিকদারসহ কয়েকজন জঙ্গি সদস্যের পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে ইমরান সহযোগিতা করেছেন। এমনকি র্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত মাওলানা আব্দুল হাকিমকে জেল থেকে ছাড়ানোর জন্য তার স্ত্রীকে দুই লাখ টাকা দিয়েছেন এবং জেএমবির শুরা সদস্য সাজিদকে বিভিন্ন সময় আশ্রয় ও অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। সাজিদের ব্যাপারে র্যাব জানিয়েছে, সাজিদ বিভিন্ন সময়ে কামরান, লাল ভাই, হাবিবুর রহমান, মামুন বা রশিদ নাম নিয়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাতেন। বর্তমানে তিনি জেএমবির ‘গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে’ আছেন। তিনি জেএমবির মূল সমন্বয়কারী হিসেবে কেন্দ্রীয় আমির আবু মুহারিবের আস্থাভাজন। আবু মুহারিবের পরিকল্পনায় সাজিদ জেএমবির মূলধারা এবং বর্তমান ধারাকে একত্রিত করার প্রয়াস নিয়েছে। এজন্য সে বিভিন্ন স্থানে জেএমবির শুরা সদস্যদের সঙ্গে গোপনে বৈঠকে মিলিত হয়েছে। সিলেটের আতিয়া মহলে অভিযানের আগে সাজিদ সেখানে ছিলেন এবং পরে ঢাকায় এসে ইমরানের মহাখালীর বাসায় আশ্রয় নেন বলে র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান র্যাবকে বলেছেন, সাজিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হত থ্রিমা অ্যাপের মাধ্যমে। গত ২৬ মে থেকে সাজিদের আইডি নিষ্ক্রিয়। এই সাজিদকে নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বৈঠক করে নাশকতার পরিকল্পনা করেন ইমরান। তিনি র্যাবকে আরো জানিয়েছেন, সাজিদ ছাড়াও আব্দুল হাকিম, তাওহীদ, রাশেদ, আনোয়ার ও জনি ওরফে মোহাম্মদসহ জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাকে তিনি নিজের বাসায় আশ্রয় দিয়েছেন।
ইত্তেফাক/নূহু