রাজধানীর বনানীতে এফ আর টাওয়ার নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে কি না সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য ভবনের তথ্য চেয়ে বৃহস্পতিবার ৯ সংস্থার কাছে চিঠি দেন দুদকের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক।
যেসব সংস্থায় চিঠি দেওয়া হয়েছে- রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড এবং ঢাকা ওয়াসা।
গত বৃহস্পতিবার কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে অবস্থিত এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ২৬ জন প্রাণ হারান। এরপর থেকে ভবনটি নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। টাওয়ারের পাঁচটি তলা নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই তলাগুলো ভেঙে ফেলার জন্য রাজউক নোটিশ প্রদান করেছে। কিন্তু ডেভেলপার কোম্পানি অবৈধ অংশ ভাঙেনি বরং অবৈধভাবে নির্মিত ভবনের ২১, ২২ ও ২৩ তলা একটি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখেছিল।
আরো পড়ুন: কেনিয়ার জোমো কেনিয়াত্তা বিমানবন্দরে আগুন
অগ্নিকাণ্ডের পর তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়। তিন আসামি হলেন- টাওয়ারের জমির মালিক এস এম এইচ আই ফারুক, টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলাম এবং ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল। এর মধ্যে ফারুক ও তাসভিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম বলেন, এফ আর টাওয়ার ভবনটিকে ১৮তলা ইমারত নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১৯৯৬ সালে। ২০০৫ সালে এসে রাজউকে একটা কপি দাখিল করে বলা হয় এটা ২৩ তলা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, যে কপি ভবন কর্তৃপক্ষ দাখিল করেছে তার সমর্থনে রাজউকের রেকর্ডে কোথাও কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। এতে তদন্তে রিপোর্টে ধরে নেওয়া হয় ২৩ তলার যে নকশা ভবন কর্তৃপক্ষ দাখিল করেছে তা সঠিক নয় এবং মূল অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ