মিরসরাইয়ে ৫ হাজার বসতঘর পানির নিচে

 
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক রাতে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় পাঁচ হাজার বসতঘর। পানিবন্দি হয়ে আছে লাখেরও অধিক মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর আউশ-রোপা, ভেসে গেছে প্রায় ছয় শতাধিক পুকুরের মাছ। গ্রামীণ সড়ক গুলোর উপর দিয়ে বইছে পানির স্রোত। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ।
 
উপজেলার খইয়াছড়া ইউনিয়নের ফেনাপুনী, গোভনীয়া, আমবাড়িয়া গ্রামের প্রায় পাঁচশ পরিবারের বসতঘর হাঁটু পানিতে ডুবে আছে। ছোট ছোট বাচ্চাদের রাখা হয়েছে খাটের ওপর। বাইরে বের হওয়ার কোন সুযোগ নেই। বাড়ির উঠান ডুবে আছে কোমর পানিতে। পথঘাট, পুকুর তলিয়ে গেছে পানির নিচে। স্থানীয় ইব্রাহীম, সুফিয়া বেগম, আমিন মিয়া জানান, সোমবার সারাদিন বৃষ্টি হলেও তেমন পানি ছিল না। কিন্তু সন্ধ্যা থেকে প্রচুর বৃষ্টি ও পাহাড়ি পানি নেমে আসায় বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, পুকুর, জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়।
IMG0
তারা আরও জানান, এলাকার প্রায় পাঁচশত পরিবারের লোকজন ভোর রাতে রান্নাবান্না করতে না পেরে শুধু পানি খেয়ে রোজা রেখেছে। কিন্তু ইফতার কিভাবে করবে, বাচ্চাদের কিভাবে খাওয়াবে তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে। মসজিদিয়া, নয়দুয়ার, বুজর্নগর গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। আবুল কালাম নামে একজন জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বাড়ি ঘরে থাকাও কষ্টসাধ্য পড়ে পড়বে।
 
মিরসরাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হক জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রায় ছয় শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেনে তিনি। মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কারণে বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে শুকনো খাবার দেয়ার জন্য চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/জামান