খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসে নিহত ২

জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম বর্মাছড়ি ইউনিয়নে পাহাড় ধসে এক নারীসহ ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত ১৩ জুন মঙ্গলবার টানা বর্ষণে বর্মাছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ খবর নিশ্চিত করেছেন। সাবেক লক্ষ্মীছড়ি ইউনয়ন পরিষদর চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র চাকমা এ প্রতিনিধিকে বলেন, বর্মাছড়ি ইউনিয়নের ফুত্যাছড়া পাড়ার প্রাণকৃত্য চাকমার ছেলে পরিমল চাকমা (৩০) পাহাড় ধসে মাটি চাপায় মারা যান। একই পরিবারের শিশু ও নারীসহ আরও ৭জন আহত হয়। ঘটনাটি মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঘটলেও ছড়া ও খালে পানি ভরাট হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে আনা সম্ভব হয়নি। আজ বুধবার সকালে আহতদের লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। 
 
লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন- মধ্যম বর্মাছড়ি পাড়ার সজিব চাকমার স্ত্রী রজমালা চাকমা (২৪), তার ৯ বছরের কন্যা পার্কি চাকমা ও ৬ বছরের শিশু তুষি চাকমা। 
 
স্থানীয় সাংবাদিক মোবারক হোসেন জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ঘটনাস্থলে আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন- একই গ্রামের ধনঞ্জয় চাকমা (৬৫), তার স্ত্রী তিতুর বালা চাকমা (৫৫), মেয়ে সাবিত্রী চাকমা (৪০) ও সাবিত্রী চাকমার ছেলে এপিন চাকমা। দুর্গম এলাকা এবং সড়ক যোগাযোগ না থাকায় তাদেরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের একমাত্র সুস্থ থাকা সদস্য সজিব চাকমা বলেন, আমি এখন নিরুপায় বাড়ির সবাই পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে আহত হয়েছে। বাকী আরও ২জন আহত ব্যক্তির নাম জানা যায় নি। রবিবার বিকালে ঘটনাটি ঘটলেও  দুর্গম এলাকা, দুর্বল নেটওয়ার্ক হওয়ায় সংবাদকর্মীদের খবর পেতে দেরি হয়েছে। 
 
লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যু ও ৭ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ৩টি গরুও মারা যায়। তিনি জানান, লক্ষিছড়ি হাসপাতালের চিকিৎসক শেখ মুজিবরের নের্তৃত্বে একটি মেডিকেল টিম দুর্গম এলাকা বর্মাছড়িতে আহতদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।   
 
এদিকে বর্মাছড়ি ও কাউখালী সীমান্তে হলুদ্যা পাড়া বড়ইতলী এলাকার পুতুল্যা চাকমার স্ত্রী কালেন্দ্রী চাকমার (৪৫) মাটি চাপায় মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পতুল্যা চাকমা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এব্যাপারে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল পাহাড় ধসের ঘটনায় ২জনের মৃত্যুর খবর শুনেছেন। ঘটনাস্থল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কি.মি. দূরে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। তবে এ ঘটনা কাউখালী উপজেলায় ঘটেছে বলে অপর একটি সূত্রে জানা গেছে। লক্ষ্মীছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ আরিফ ইকবাল পাহাড় ধসের ঘটনায় মৃত্যুর খবর শুনেছেন তবে কেউ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ নিয়ে আসেনি। 
 
ইত্তেফাক/এমআই