ঈদকে সামনে রেখে ছিনতাইকারী ও প্রতারকচক্রের তৎপরতা বেড়েছে

 
ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে ছিনতাইকারী ও প্রতারক চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। তারা অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও কৌশলে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে। বুধবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ২১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, নেশা জাতীয় সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, বুধবার রাতে ডিএমপির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে অজ্ঞানপার্টির ১৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে। এরা হলো- রওশন মিয়া, মো. সোহাগ, মো. রাসেল, মো. বাবু, হূদয়, ছোট বাবু, সুমন হাওলাদার, বিজয় চন্দ্র, সুমন, ফয়সাল, বিল্লাল হোসেন, আবুল হোসেন, আকাশ ভূঁইয়া, ছালাম ও মো. রুবেল।
 
অন্যদিকে কারওয়ানবাজারের কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাই ও ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এরা হলো- সুরুজ মিয়া, মো. শান্ত, হাসান মোল্লা, মো.তাইমুন ভূঁইয়া, মো. পরান ও মো. সাগর। গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে ২টি পিস্তল সদৃশ কালো রংয়ের বস্তু এবং ১ টি দেশি চাকু উদ্ধার করা হয়।
 
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে জানায়, চেতনানাশক ট্যাবলেট বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য যেমন ডাবের পানি, খেজুর, চা, কফি ও তরল দ্রব্যের সঙ্গে মিশিয়ে তারা নিজেদের হেফাজতে সংরক্ষণ করে। তারা যাত্রী বেশে বিভিন্ন গণপরিবহনে হকার বেশে উঠে। তাছাড়া বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালসহ জনসমাগমস্থলে নিরীহ যাত্রী বা পথচারীদের মধ্যে কোনো ব্যক্তিকে টার্গেট করে তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। সখ্যতার একপর্যায়ে তাদের পূর্বের প্রস্তুতকৃত খাদ্যদ্রব্যের সাথে চেতনানাশক ট্যাবলেট মিশ্রিত খাবার টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে কৌশলে খাইয়ে অচেতনন করে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান দ্রব্যসহ সর্বস্ব লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়। সারাবছর তারা এ পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করলেও ঈদ, পূজা, রোজাসহ অন্যান্য উৎসবের সময় তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্যরা জানায় যে, তারা দীর্ঘদিন যাবত সাধারণ জনগণের চলার পথে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদেরকে থামিয়ে সর্বস্ব ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।
 
ইত্তেফাক/এমআর