৮০ বছরেও জোটেনি বয়স্কভাতা

বয়সের ভারে বহুদিন আগেই তার সাদা চুল কালো হয়ে গেছে। অসুস্থতার কারণে সারাক্ষণ কাতরাতে থাকে। বাত ব্যথায় জর্জরিত সারা শরীর। চোখেও ছানি পড়তে শুরু করেছে। মাঝে মধ্যেই নাক দিয়ে গললিয়ে রক্ত ঝরে। হাটাহাটি করলেই শুরু হয় অ্যাজমার টান। তবুও নিজের একটু খাবার আর সামান্য ঔষধের জন্য ৮০ বছর বয়সী মছিরন বেগম সকাল-সন্ধ্যা ছুটে চলেন পাড়ার এ বাড়ি ও বাড়ি আর হাট-বাজারে। উপজেলা সদরের তাড়াশ খাদ্য গুদামের পেছনে তার ছোট্ট কুটিরে গিয়ে মানবেতর জীবন-যাপনের এসব চিত্রই প্রতীয়মান হয়।
 
প্রায় বছর দশেক আগে পার্শ্ব¦বর্তী কাজিপুর উপজেলা থেকে অসুস্থ স্বামী এবং এক মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তাড়াশে আসেন তিনি। সারাদিন চেয়ে-চিন্তে খেয়ে রাতে থাকতেন খাদ্য গুদামের আশপাশে খোলা আকাশের নিচে। এসব দেখে পাশের ভাদাস গ্রামের আফছার নামে এক ব্যক্তি বসতঘরের জন্য অল্প জায়গা দেন। সেখানে একটি তাল পাতার টুপরি বানায় সে। এরপর ১০/২০ টাকা করে তুলে স্থানীয় লোকজন পলিথিনে মুরিয়ে খোলপার চাল আর বনের বেড়া দিয়ে একটি ঘর বানিয়ে দেন তাকে।
মছিরন বেগম জানান, ভিটে মাটিহীন তার দিনমজুর স্বামী আব্দুল্লাহ আট বছর আগে সেই তালপাতার ঘরে অসুস্থ অবস্থায় মারা গেছেন। সেই থেকে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে হাছিনাকে (৪০) নিয়ে তার বসবাস। বর্তমানে খোলপার চাল আর বনের বেড়ার ঘরটি ভেঙে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই টপটপ করে জল ঝরে।
 
এ সময় মছিরন আরো জানান, ডাক্তার অ্যাজমা জনিত অসুস্থতায় ইনহেলার ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছেন তাকে। লাগাতার বৃষ্টিতে টুপরি ঘরটির একেবারে জীর্ণ অবস্থা। শিগগিরই  এ ঘরটি মেরামত করা না হলে আবারও তার ঠাই হবে খোলা আকাশের নিচে। তাইতো ৮০ বছরে এসে সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকতে বয়স্কভাতা কার্ড পেতে তিনি এখনও যথেষ্ট আশাবাদী।
 
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শাহাদত হোসেন বলেন, মছিরনের বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। উনার জন্য বয়স্কভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।
 
ইত্তেফাক/এমআর