পাহাড় ধসের ঘটনায় সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার আবারো একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। দেশে আর কোনো একতরফা নির্বাচন হবে না। আমরা একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। ‘আজো পরাধীনতার শিকলে বাধা আমার স্বাধীনতা’ শিরোনামে এই সভা হয়। ১৬ জুন গণমাধ্যমের কালো দিবস পালন উপলক্ষে সভার আয়োজন করে ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট নামের একটি সংগঠন।
আমির খসরু বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনার ওয়ার্নিং ছিল- অতিবৃষ্টির হলে পাহাড় ধস হয়। তারপরও আমরা দেখেছি ২শ’র কাছাকাছি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সেখানেও সাহায্য-সহযোগিতায় সরকারের পক্ষ থেকে যে সক্ষমতা থাকার কথা ছিল সেখানেও আমরা দুর্বলতা লক্ষ্য করছি। সবকিছুর শেষ কথা হচ্ছে, জবাবদিহিতা যেখানে থাকবে না, সেখানে একটার পর একটা বিপর্যয় ঘটবে এবং দেশের জনগণ তার শিকার হবে।
তিনি বলেন, সরকার আবারো একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু আমরা বলবো দেশে আগামী দিনে আর কোনো একতরফা নির্বাচন হবে না। ইতিমধ্যে বেগম খালেদা জিয়া সেই ঘোষণা দিয়েছেন। আমরাও সবাই একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
খসরু বলেন, যে দেশে মৌলিক অধিকার ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়, সেখানে সকল অধিকারই কেড়ে নেয়া হবে। জীবনের নিরাপত্তাও কেড়ে নেয়ে হচ্ছে। আজকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হলে ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জবাবদিহিমুলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা গণমাধ্যমের কাছে জবাবদিহিতা করবে। আজকে উল্টোটা হয়েছে যে- গণমাধ্যম সরকারের কাছে জবাবদিহি করছে। তাই গণমাধ্যমের স্বাধিনতার লড়াইয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি ও এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, কাজী মনিরুজ্জামান, ইসমাইল তালুকদার খোকন, এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
ইত্তেফাক/ইউবি