দার্জিলিংয়ে টানা বিক্ষোভে পাহাড়ে তীব্র খাদ্য সংকট

স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দল কর্তৃক দার্জিলিংয়ের সংখ্যাগুরু নেপালি ভাষাভাষী গোর্খা সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা একটি রাজ্যের দাবি ভারতের চা উৎপাদনকারী ওই অঞ্চলটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পশ্চিম বাংলার পুলিশকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী তলব করা হয়েছে। চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে পাঁচজন নিহত এবং ৩০ পুলিশসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। 
 
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (জিজেএম) বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যার জন্য পুলিশকে দায়ী করেছে, যে অভিযোগ পুলিশ অস্বীকার করেছে। জিজেএম স্বতন্ত্র গোর্খাল্যান্ডের জন্য ‘শেষ পর্যন্ত এক লড়াইয়ের’ হুমকি দিয়েছে। এই বিক্ষোভ বা আন্দোলন উস্কে দিয়েছে পশ্চিম বাংলার ক্ষমতাসীন তৃনমূল কংগ্রেস সরকারের একটি সিদ্ধান্ত। সেটি হলো, দার্জিলিংসহ রাজ্যের সব স্কুলে বাংলা ভাষাকে আবশ্যিক করা। 
 
জিজেএমের প্রধান বিমল গুরুং নতুন করে স্বতন্ত্র গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলে বলেন, ‘আমরা বাঙ্গালি নই, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা নয়, দার্জিলিংয়ে পাহাড়ে প্রায় সবাই নেপালি বলেন, তাহলে স্কুলগুলোতে কেন আমাদেরকে বাংলা শিখতে বাধ্য করা হবে?’
 
এদিকে টানা বিক্ষোভ এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তল্লাশির কারণে পাহাড়ে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এরকম প্রেক্ষাপটে গতকাল মঙ্গলবার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ডাকে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর আগে রবিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ পরপর টুইট করে শান্তি স্থাপনে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের আলোচনায় বসতে বলেন। এমনকি, হিংসাত্মক আন্দোলন করে ভারতীয় গণতন্ত্রে যে লাভ হয় না, তা-ও স্পষ্ট করে দেন। এর ওপর খাদ্য সংকট মোর্চার জন্য নতুন মাথাব্যথা।
 
বিমল গুরুঙ্গের দলের একাংশও চাইছেন, গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলন চলুক, কিন্তু পাহাড়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ফিরে আসুক। তারা বলছেন, তা না হলে কয়েক দিনের মধ্যে পাহাড়ে খাদ্য সংকট দুর্ভিক্ষে মোড় নিতে পারে। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির