মাত্র ১৮ মাস আগেও তিনি ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথাই ভাবছিলেন। এই খেলাটাতে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার আর ভবিষ্যত নেই বলেই মনে করছিলেন। কিন্তু কিছু শুভাকাঙ্খির কথা শুনে সেই অবসর ভাবনাটাকে এড়াতে পেরেছিলেন। ভাগ্যিস পেরেছিলেন।
অবসর ভাবনা এড়িয়ে আবার ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার পর রান বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। আর সেই রানই তাকে জায়গা করে দিয়েছে ২০১৯ বিশ্বকাপের নিউজিল্যান্ড দলে। অবসরের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে জিমি নিশাম আবার এখন বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছেন।
নিশাম বলছিলেন, এবারের বিশ্বকাপে ১৫ সদস্যের দলে ডাক পাওয়াটা তার কাছে এক ‘অতিজাগতিক’ অনুভূতি। চার বছর আগে যে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল, সেটাই যেন এক পূর্ণতা পেল এবার বিশ্বকাপের দলে। ঘরের মাটিতে ২০১৫ বিশ্বকাপের দল থেকে শেষ মুহূর্তে বাদ পড়েছিলেন। তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছিলেন গ্রান্ট এলিয়ট। ইডেন পার্কের গ্যালারিতে বসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এলিয়টনের সেই ছক্কা দেখেছিলেন; যে ছক্কায় ভর করে ফাইনালে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড।
কিন্তু নিশামের আসল মনোযন্ত্রণা শুরু ২০১৭ সালে। সে বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তিনি নিজে ভালো কিছু করতে পারেননি। দলও যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স করে ছিটকে পড়েছিল। এরপরই নিশাম মনে করেছিলেন, তাকে দিয়ে আর ক্রিকেট হবে না। অবসরের সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে ফেলেছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে তাকে বিরত করেন হিশ মিলস।
নিউজিল্যান্ড খেলোয়াড় অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী মিলস নিশামকে সময় নিতে বলেন। আর এই সময় নেওয়াটাই রক্ষা করে তাকে, ‘আমি আসলে (অবসরের) যতোটা সম্ভব কাছে চলে গিয়েছিলাম। আমি আসলে হিশ মিলকে ফোন করেছিলাম যে, আমি অবসর নিতে যাচ্ছি। কিন্তু ওর কাছে আমি ঋণী হয়ে আছি। কারণ, সে আমাকে বললো, কিছুটা সময় নিতে এবং তিন-চার সপ্তাহ পর ফিরে এসে সিদ্ধান্ত নিতে। ওখান থেকে আমার মানসিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করলো। আর সেখান থেকে আমি ওয়েলিংটনে ফিরে গেলাম এবং এক অতিজাগতিক যাত্রা শুরু হলো।’
এখান থেকে ফেরার পর ফোর্ড ট্রফিতে অসাধারণ একটা সময় কাটালেন নিশাম। ৬২.৮৭ গড়ে এই টুর্নামেন্টে ৫০৩ রান করলেন। এর মধ্যে দুটো সেঞ্চুরি ছিল এবং বেশ কিছু কার্যকর উইকেট ছিল। আর এর ফলেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের মাটিতে সর্বশেষ সিরিজে ডাক পেয়ে গেলেন।
এবার যখন দারুণ ফর্মের ফল হিসেবে সেই স্বপ্নের বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়ে গেলেন, ব্যাপারটা তার প্রথমে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। পরে নিজেই নিজেকে বলেছেন, এটা প্রকৃতিরই একটা উপহার। তার সামনে সুযোগ ২০১৫ সালের স্বপ্নভঙ্গ ও ২০১৭ সালের ব্যর্থতাকে ভুলিয়ে দেওয়ার।