ঢাকায় এসে গর্ডন গ্রীনিজ

‘দুঃখ লাগছে কেন গলফ খেলিনি’

বাংলাদেশের কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে আগেও এসেছিলেন তারপরও তাঁকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহের শেষ নেই সংবাদ মাধ্যমের। বাংলাদেশের মানুষের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার হিসেবে গর্ডন গ্রীনিজের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের যতটা না আগ্রহ, তার চেয়েও ঢের বেশি আদরণীয় বাংলাদেশের ক্রিকেট কোচ হিসেবে। তার হাত ধরেই ৯৭ আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলার ঘরে ঘরে রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন। সেই ৯৭ থেকে ২০১৯, তাঁর প্রতি এদেশের মানুষের এতটুকু শ্রদ্ধা কিংবা ভালোবাসা কোনোটাই কমে যায়নি। মাঠের লড়াইয়ে এদেশের ক্রিকেটকে উজ্জ্বল আলোর পথে নিয়ে যেতে যাঁদের অবদান, গর্ডন গ্রীনিজ তাঁদের অন্যতম। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভালোবাসার এই মানুষকে ঘিরে কাল বিকালে কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে সংবাদ মাধ্যমের উপচেপড়া ভিড়। স্বাভাবিক ভাবেই ক্রিকেটের আলোচনা উঠলো। খুব সানন্দেই জবাব দিচ্ছিলেন গর্ডন গ্রীনিজ। বাধা হয়ে দাঁড়ালেন এশিয়ান ট্যুর বঙ্গবন্ধু ওপেন গলফের আয়োজক এবং পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

গলফের পরিবেশে গলফের আলোচনাই শ্রুতিমধুর লাগবে। কারণ গলফারদের উজ্জীবিত করতেই এই বিশ্ব ক্রিকেট তারকাকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। গলফ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দুঃখ করলেন গর্ডন গ্রীনিজ। আক্ষেপ করলেন সাবেক এই ব্যাটসম্যান। রাখঢাক না করে বলেই দিলেন আমার দুঃখ লাগছে কেন গলফ খেলিনি। গলফার হলেই বোধহয় ভালো হতো। অনেক দিন ঢাকার এই কোর্সে গলফ খেলেছেন। কিন্তু আক্ষেপের কথাটা এবারই প্রকাশ পেল। গর্ডন গ্রীনিজ বলছিলেন, ‘ক্রিকেটার না হয়ে গলফার হলে ভালো হতো কারণ ক্রিকেট খেলাটা একজন পার্টনারের ওপর নির্ভর করে। যা কিছু হয় পার্টনারের সহযোগিতাও থাকে। কিন্তু গলফ খেলাটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে।’ গলফ নিয়ে গর্ডন গ্রীনিজের অনেক স্মৃতির কথাও উঠে আসলো।

সকালের ভাগেই ঢাকায় পা রাখার কথা ছিল গর্ডনের। তাঁর অপেক্ষায় সংবাদ মাধ্যম কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে ভিড়। কিন্তু গর্ডনের কোনো খবর নেই। ক্লান্তিহীন অপেক্ষার পর বিলম্বিত ফ্লাইটে দুপুরে ঢাকায় পৌঁছে হোটেল হয়ে গলফ কোর্সে পৌঁছান গর্ডন। শার্ট পরিবর্তন করে এশিয়ান ট্যুরের লোগো সংবলিত একটি পোলো শার্ট গায়ে চড়ান। তিন তলায় ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব ক্রীড়া সংগঠক সৈয়দ আশরাফুল হকের সঙ্গে বসে ৬৭ বছরের গর্ডন খাবার খেয়ে নিচে নামেন। হুমড়ি খেয়ে পড়ে গণমাধ্যম। সংবাদ সম্মেলনে কথা বলা শেষ হলে তাঁকে নিয়ে কোর্সে যান কর্মকর্তারা। গলফের ক্লাব হাতে যখন বল বসালেন ছবি তোলার জন্য ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। দু-তিনবার ছোট সাদা বলটাকে হোলে ফেলার চেষ্টা করেও পারছিলেন না। কাছে গিয়েই বল থেমে যায়। তাতেই সবাই বাহবা দিচ্ছিলেন। সন্তুষ্টির হাসি গর্ডনের ঠোঁটে। ফটো সংবাদিক, টিভি ক্রু, গলফ ফেডারেশন কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক, পালাক্রমে সবার সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ মিটিয়েছেন। এই গলফ কোর্সে নতুন নন গর্ডন। আগেও এসেছেন। গলফ তাঁর পছন্দের খেলা। বলছিলেন ‘এবার নিয়ে দু বছরে দুবার এসেছি। আমার কাছে মনে হয় এটা (বাংলাদেশ) যেন আমার জন্য বাসা থেকে আরেক বাসায় আসা।’

গলফে আসা নিয়ে গর্ডন বললেন, ‘আমি গলফার না গলফ খেলার চেষ্টা করি।’ নিজেই বললেন আরো দুই দিন থাকবেন ঢাকায়। ইচ্ছে আছে তাঁর সময়ের ক্রিকেট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করবেন।