গতবছর অকাল বৃষ্টি ও বন্যায় বোরো ধানের ফলন ঘরে না তুলতে পারলেও এবার রোপা ভালোই দেখা যাচ্ছে। বি-২৮ পাকা ধান কাটার আগেই ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি নেই।
নিকলী উপজেলার নয়টি হাওরে পাকা বোরো ধান ক্ষেতের শীষে নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। হাওরগুলো হলো: বরুলিয়া হাওর, জোহানশাহী হাওর, পরানের চর, রবিরচর, সিংপুর হাওর, ঘোড়াদীঘা হাওর, বাটিবরাটিয়া হাওর, কুর্শা হাওর ও নিকলীর বড় হাওরগুলোতে নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত বেশি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানান, চলতি মৌসুমে নিকলীতে ১৫ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বি-২৮ ধান পাঁচ হাজার ২৪০ হেক্টর, ব্রি-২৯ ধান ছয় হাজার ৬৩৪ হেক্টর, হাইব্রিড এক হাজার ১৭৫ হেক্টর ও অন্যান্য জাতের ৩৪ হেক্টর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মঙ্গলবার সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আর এক সপ্তাহ পর থেকেই ব্রি-২৮ জাতের ধান কাটা শুরু হতো। এর আগেই নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে।
জাফরাবাদ গ্রামের আ. হাসিম বলেন, আমার আড়াই একর ব্রি-২৮ ধানের জমিতে নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় জমির পাকা ধানসহ ও গাছ চোখের সামনে মরে যাচ্ছে।
কামালপুর গ্রামের কৃষক খায়রুল ইসলাম জানান, বুরুলিয়া হাওরে আমার এক একর জমিতে এ রোগ দেখা দেওয়ায় ধান গাছ কেটে আর বাড়িতে আনতে পারছি না। জমিতে ধান গাছগুলো মরে খড় হয়ে গেছে। সারাবছর আমি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে কী খেয়ে বাঁচবো। মীরহাটি গ্রামের জহুর মিয়া ও কইবতহাটি গ্রামের মুসকো মিয়া পরানেরচর হাওরে জমিতে ওই রোগ দেখা দেওয়ায় বছরের একমাত্র বোরো ফসল ঘরে তুলতে না পারায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
ঘোড়াদীঘাপুর গ্রামের কৃষক শমশের মিয়া জানান, ঘোড়াদীঘা হাওরে এক একর জমিই সম্বল। ওই রোগে আমার জমির ধান সব শেষ করে ফেলেছে। কী করবো আল্লাহ-মাবুদ জানেন। সিংপুর গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া বলেন, গতবছর বন্যার কারণে ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। এ বছর সিংপুর বড় হাওরে দুই একর ব্রি-২৮ জাতের ধানের জমিতে নেক ব্লাস্টার রোগে আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। নিকলী উপজেলার কৃষকের মধ্যে শেষ মুহূর্তে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আ. মন্নান বলেন, নেক ব্লাস্ট রোগের সৃষ্টি হয় রাতে কুয়াশা, শীত, দিনে গরম, গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টি থেকে। কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে চেষ্টা করছি।
নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ নেক ব্লাস্ট রোগে পাকা বোরো ধানের জমি আক্রান্ত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ রোগ দেখা দিয়েছে তবে ব্যাপক আকারে নয়। রোগ প্রতিকারের জন্য উপজেলা কৃষিবিভাগ কৃষকদের নাটিবো, এমিস্টারটপ ও টুপার নামক কীটনাশক একরে ১২০ মিলিগ্রাম ওষুধের সাথে ২০০ লিটার পানিতে মিশিয়ে জমিতে স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছে।