খুলনার কয়রা উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী মারপিট ও হামলার শিকার হচ্ছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্মী রেজাউল করিম বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের রামদার কোপে জখম হয়েছেন। মহারাজপুর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওহিদ মোড়ল লাঞ্ছিত হয়েছেন। উত্তর বেদকাশি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক আবু বক্কার সিদ্দিকীর স্ত্রী তসলিমা খাতুন ও পুত্রবধূ ফাতেমা খাতুন অপমানিত হয়েছেন। উপজেলায় শাসক দলের পাঁচশ নেতাকর্মী প্রাণের ভয়ে বাড়ি ছাড়া হয়েছে। অপরাধ বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরোধীতা ও শাসক দলের নৌকা প্রতীকে সমর্থন দেওয়া।
কয়রা উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনের পাল্লা ভারী। ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মাওলানা আ খ ম তমিজউদ্দিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ১৯৯১ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অধ্যক্ষ শাহ রুহুল কুদ্দুস খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরোধী প্রার্থীকে সমর্থন দেয়। তাদের সমর্থনে এবারে বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম শফিকুল ইসলাম কয়রা উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে তিনি কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
গত ৩১ মার্চ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে শাসক দলের এসএম শফিকুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চার হাজার ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ফলাফল ঘোষণার পর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা উপজেলা সদর ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর, শাসক দলের সদর ইউনিয়ন শাখার প্রচার সম্পাদক সাজাহান সিরাজের বাড়িতে হামলা, উপজেলা সদর ইউনিয়নের সভাপতি এসএম জিহাদ আলীর বাড়িতে হামলা, কয়রা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লুত্ফর রহমানকে প্রহার করার জন্য বাড়িতে তল্লাশি, চার নম্বর কয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে জয় বাংলা ক্লাবে টানানো বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অসম্মান করে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় প্রেসক্লাবে খুলনা জেলা বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সহকারী সমিতির দপ্তর সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী সানা খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বাহিনীর তাণ্ডবে শাসক দলের কর্মীরা বাড়ি ছাড়া হয়েছে। প্রাণের ভয়ে কর্মীরা খুলনা, আশাশুনি ও সাতক্ষীরা শহরের আত্মীয়র বাড়ি অবস্থান করছে। তিনি অভিযোগ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী রেজাউল করিমকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে খুলনা মেডিক্যাল কলেজে চিকিত্সাধীন।
সংবাদ সম্মেলনে তার অভিযোগ, তিন নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য কুদ্দুস সরদারের দোকান ভাঙচুর হয়েছে। চারটি ইউনিয়নের মধ্যে দক্ষিণ বেদকাশী, উত্তর বেদকাশী, কয়রা ও গোবরায় চারটি চিংড়ির ঘের দখল হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা এবং কর্মীদের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।