টানা খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি ছড়া

টানা অনাবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ছড়াগুলোর অধিকাংশই পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। ছড়ায় পানি না থাকায় পার্বত্য জনপদে বসবাসকারীদের পানির কষ্ট চরমে উঠেছে। ছড়ায় পানি না পেয়ে মানুষ দূর-দূরান্তে ছুটছেন পানির জন্য। রাঙ্গামাটি জেলার ১০ উপজেলার প্রায় প্রত্যেক এলাকাতেই পানির কষ্ট চরমে উঠেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলাসহ কাপ্তাই, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, কাউখালী, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, বরকলসহ সব উপজেলার বাসিন্দারাই পানির কষ্ট ভোগ করছেন।

কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা, রাইখালী এবং চিত্মরম ইউনিয়নে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে পাহাড়ি প্রায় প্রতিটি ছড়াই শুকিয়ে আছে। ওয়াগ্গা ইউনিয়নের প্রাক্তন মেম্বার আপাই মারমা বলেন, এই এলাকার কয়েক হাজার পরিবারের পানির একমাত্র ভরসা হলো- ‘ওয়াগ্গাছড়া’। কিন্তু ছড়ায় এখন এক ফোঁটা পানিও নেই। স্থানীয় পাগলীপাড়ার বাসিন্দা সুষমা তনচংগ্যা বলেন, ছড়ায়ও পানি নেই আবার টিউবওয়েলেও পানি উঠছে না। আমরা অনেক দূর থেকে কষ্ট করে পানি আনছি। পানির অভাবে নিত্যনৈমিত্তিক অনেক কাজ করা যাচ্ছে না।

জীবতলী চেয়ারম্যান পাড়ার সুদর্শন কারবারী জানান, কাপ্তাই লেক থেকে অনেক উপরে আমাদের পাড়া। এই পাড়ায় ৬৭টি পরিবারের বসবাস। ছড়ায় পানি না থাকায় পাড়ার সবাই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অনেক দূরে কাপ্তাই লেক থেকে পানি এনে কোনো রকমে রান্নার কাজ সারা হয়। কিন্তু গোসল করা এবং কাপড় ধোয়ার কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুদত্ত কারবারী চাকমা জানান, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে এলাকায় এভাবে পানির কষ্ট দেখা যায়। এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যানকে লিখিত অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. দিলদার হোসেন জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক পরিবার একমাত্র পাহাড়ী ছড়ার উপর নির্ভরশীল। ছড়ায় পানি থাকলে মানুষ দৈনন্দিন কাজকর্মসহ সেচ কাজেও পানি ব্যবহার করে। অনেক এলাকায় সরকারিভাবে এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে ডিপ টিউবওয়েল বসিয়ে এবং মোটরের সাহায্যে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব এলাকা অত্যন্ত দুর্গম এবং যেখানে ডিপ টিউবওয়েল বসানোর সুযোগ নেই অথবা মোটরের সাহায্যে পানি উঠানো সম্ভব হচ্ছে না সেসব এলাকার মানুষ পানির অভাবে বেশি কষ্ট পাচ্ছে।