মঙ্গলে জীবনের অস্তিত্ব

বিতর্ক উসকে দিল নতুন দুটি ছবি

মঙ্গলের বুকে চষে বেড়ানো নাসার মহাকাশযান কিউরিসিটি রোভার যেন সেখানে প্রাণীর অস্তিত্ব প্রমাণ করার পণ নিয়েছে। একবার রোভারের তোলা একটি ছবি দেখে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দানবাকার একটি কাঁকড়া গুহার মধ্যে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এরপর রোভারের তোলা একটি নারী মূর্তির ছবি ছবি নিয়েও কম জল ঘোলা হয়নি। কখনো নারীমূর্তি, কখনো পিরামিডের ছবি আবার কখনো ভাসমান চামচের ছবি পাঠিয়ে মানুষকে বিশ্বাস করাতে চাইছে ‘মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত।’ নানা তর্ক-বিতর্কে সে সব ছবির সত্যতা ধোপে টেকেনি। তবে আবারো দুটি ছবি পাঠিয়ে নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছে নাসা।

কিউরিসিটি রোভারের পাঠানো  এবারের ছবির একটিতে দেখা গেছে একেবারে সত্যিকারের একটি স্পেসশিপ। এই স্পেসশিপটি এলিয়েনদের ব্যবহারের যন্ত্র বলেও দাবি করেন এলিয়েন উত্সুকরা। অন্য ছবিতে দেখা গেছে বেশ কিছু হাড়গোড় যার মধ্যের একটি হাড়কে এলিয়েনের পাজরের হাড় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলিয়েনে সন্ধানী এবং স্যাটেলাইট ইউএফও উত্সাহীরা অবশ্য ছবি দুটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তাদের মতে, মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য এই ছবি দুটি বেশ জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। কিউরিসিটি রোভারের তোলা ছবি দুটি ২০১৪ সালের বলে জানানো হয়েছে। এলিয়েনের পাজরের হাঁড় বলে মনে করা ছবিটির বিষয়ে এলিয়েন উত্সুকদের ভাষ্য, সেখানে এলিয়েনদের নানা রকমের কাণ্ডকারখানা সংঘটিত হয়।

এলিয়েন উত্সুক গবেষক টিজে ডেভেরেক্স নিজের র্যাডিট পোস্টে দাবি করেন, বেশ কয়েক বছর ধরে মঙ্গলের নানা বিষয় নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য এর আগে রোভারের পাঠানো যে কোন ছবির থেকে এই ছবি দুটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। এক সময়ে মঙ্গল গ্রহ বুদ্ধিমান প্রাণিদের দখলে ছিল বলেও তিনি মত দেন। তার দাবি, এখনো সেই এলিয়েনরা রয়েছে তবে সংখ্যায় কমে গেছে।

২০০৫ সালের ৫ আগস্ট মঙ্গলে কিউরিসিটি রোভার অবতরণের পর মঙ্গলপৃষ্ঠের ব্যবহারযোগ্য ৪৭০০ ছবি পাঠিয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশ করা ২৬টি ছবির মধ্যে ছিল ঐ ছবি দুটি। তবে অনেকেই আবার এই দাবির বিরোধিতা করে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/নূহু