গুলশানের হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলা কাঁপিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ৩২ সদস্য। তবে আহতরা এখনও শরীরে বহন করছেন জঙ্গিদের নিক্ষিপ্ত গ্রেনেডের স্প্লিন্টার। আর স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা তাদের কাছে প্রতি মুহূর্ত মনে করিয়ে দেয় সেই ভয়ার্ত দিনটির কথা।
গ্রেনেড হামলায় আহত গুলশান জোনের এডিসি আবদুল আহাদ ও এসি সিরাজুল ইসলাম (গুলশান থানার সাবেক ওসি, বর্তমানে লালবাগ জোনের এসি) শুনিয়েছেন তাদের কষ্টের কথা, সেই দিনের কথা। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথার বলার সময় এই দুই পুলিশ কর্মকর্তারই চোখের পাতা ভারী হয়ে ওঠে। তারা বলেন, ভাগ্যের জোরেই হয়তো আমরা বেঁচে গেছি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান বিভাগের এডিসি আব্দুল আহাদ। ঘটনার মাস খানেক আগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগ থেকে বদলি হয়ে গুলশান বিভাগে যোগদান করেন। জঙ্গিদের নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক আহত হন। উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে পাঠানো হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। বর্তমানে চিকিত্সা নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।
কেমন আছেন? প্রশ্ন করতেই আব্দুল আহাদ বললেন, ভাল নেই। প্রতিদিন পায়ে থেরাপি দিতে হচ্ছে। পায়ের গোড়ালির একটি অংশ অবশ হয়ে আছে। চিকিত্সকরা বলেছেন, এটি সচল হতে আরো সময় লাখবে। পাশাপাশি শরীরের যেসব স্থানে স্প্লিন্টার রয়েছে তা অপসারণ করতে আরো অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি কষ্ট, স্প্লিন্টারে স্থানগুলো চুলকায়। যা বলে বোঝাতে পারবো না। সব কিছু মিলে বড় ভয়।
একই কথা বললেন গুলশান থানার সাবেক ওসি সিরাজুল ইসলাম (বর্তমানে এসি)। তিনি বলেন, চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে থাকা স্প্লিন্টার অপসার করতে আরো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। এরপর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।