নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও সমমনা সংগঠন বারসিক-এর নেতৃবৃন্দ। তাঁরা বলেছেন, রপ্তানিসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া সচল রাখা, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে নিম্নআয়ের মানুষ। সংবিধানের অন্যতম অঙ্গীকার—বাসস্থান ও স্বাস্থ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্য অর্জন, মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হলে এই নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এজন্যই আসন্ন বাজেটে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন বিশেষ করে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নগর পরিবেশ ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা’-শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, সরকার নানান ধরনের উদ্যোগ নিলেও পরিবেশ বিপর্যয় কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। পরিবেশ বিপর্যয় ও তার অভিঘাতের অন্যতম শিকার হলো ঢাকাসহ নগরগুলোর নিম্নআয়ের মানুষ। এই নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তাই পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব থেকে নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় কি হতে পারে এই নিয়ে বিশেষভাবে আমাদের ভাবা প্রয়োজন।
সেমিনারে ধারণাপত্র উপস্থাপনে বারসিকের সহযোগী সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা জানি ঢাকা শহরের বস্তির সমস্যা প্রকট। প্রায় পাঁচ হাজার বস্তি রয়েছে এ শহরে। ৪০ লাখেরও অধিক নিম্নআয়ের মানুষ বসবাস করে। আমরা এই নগরের বসবাসকারী মানুষরা দেখতে পাই নগরের এই ব্যাপক অংশ মানুষদের জীবন হলো খুবই নাজুক। তাদের জন্য নেই আবাসন, সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং তাদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হলো সব থেকে বেশি। এই ব্যাপক অংশ জনসাধারণকে পরিকল্পিতভাবে বসবাস ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এই শহরের পরিবেশগত সংকট এবং তাদের জনস্বাস্থ্য এমন নাজুক অবস্থাতেই থাকবে। এ পরিস্থিতিতে দরকার সরকারের ত্বরিত ভিত্তিতে বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা।
পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, প্রতিটি ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে নিম্নআয়ের মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। তাছাড়া তাদের অল্প আয়, নিম্নমানের তৈলযুক্ত খাবার গ্রহণ, অসচেতনতা, চিকিত্সার অভাব এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকার কারণে দ্রুতই তাদের স্বাস্থ্য ভেঙে যায়। ফলে তারা ডায়রিয়া, কলেরা, জ্বর, কাশি, গ্যাস্ট্রিক, হাঁপানি, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের আয়ের বড় অংশ অর্থাত্ ৭৪ ভাগ টাকা খরচ হয় চিকিত্সা বাবদ।
ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন, পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সোবহান, ডাকসুর সাবেক জিএস ও স্বাস্থ্য আন্দোলন নেতা ডা. মোস্তাক হোসেন, পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, লায়ন রাশেদ হালদার, ডা. খালেদ শওকত আলী, স্থপতি জোবাইদা গুলশান আরা, পবার সহ সম্পাদক ব্যারিস্টার নিশাদ মাহমুদ, বস্তিবাসীদের প্রতিনিধি রাফেজা বেগম, ঝুমুর বেগম, আয়েশা বেগম প্রমুখ।