ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক আইন জারি নিয়ে যদি কেউ সমালোচনা করে তবে তাকে জেলে যেতে হবে। কারণ দেশের স্বার্থে যা যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে তা-ই তিনি করেছেন। আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট এর বৈধতার ওপর আদেশ দেবে।
দুতের্তে গত মে মাসের শেষের দিকে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও অঞ্চলে সামরিক আইন জারি করে। এখানে প্রায় দুই কোটি লোকের বসবাস। জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের অব্যাহত হুমকির কারণে এ সামরিক আইন জারি করা হয়। এর আগে দুতের্তের কথাবার্তা অনুযায়ী ধারনা করা হয়েছিল তিনি সর্বোচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা করবেন। ধারণা করা হয়েছিল তিনি তা-ই শুনবেন যা সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়।
গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের ‘খামখেয়ালীপনার’ ওপর বসে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, আমার কি উচিত তাদের বিশ্বাস করা? যখন আমি দেখলাম যে দক্ষিণের পরিস্থিতি খুব মারাত্মক, তখনই সামরিক আইন জারির বিষয়টি আসে। আবার আপনারাই তা উঠিয়ে নেওয়ার পক্ষে সাফাই গাইছেন। আমি মনে করি, দেশের এ অবস্থায় যারা এর সমালোচনা করবেন,তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাদেরকেও গ্রেফতার করা হবে।
দুতের্তে বলেন, আমরা অনেক বিষয়ে কথা বলতে পারি, অনেক বিষয়ে সমঝোতা করতে পারি কিন্তু যখন দেশের স্বার্থ জড়িত তখন কোন কিছুতে আপোস নয়,কোন সমঝোতা নয়। দুতের্তের এই সামরিক আইন জারিকে বিরোধী দল বাঁকা চোখে দেখছে। যে কারণে তারা সমালোচনায় মেতে উঠেন। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিরোধী পক্ষ দাবি করেছে যে, দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও শহরে যে সামরিক আইন জারি করা হয়েছে তা যুক্তিযুক্ত নয়। কেননা এটি একটি অসাংবিধানিক ঘোষণা। তারা আদালতের কাছে আর্জি করেন যে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর থেকে যেন সামরিক আইন তুলে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য বর্তমানে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মারাউয়ি শহরে আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে সৈন্যদের তুমুল সংঘর্ষ চলছে। সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, তারা খুব শীঘ্রই শহরটি জঙ্গিমুক্ত করবেন। কিন্তু তারপরও জঙ্গিদের দমাতে পারছে না সরকারি বাহিনী। জঙ্গিদের সঙ্গে সৈন্যদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত চারশ লোক নিহত হয়েছে। আর প্রাণভয়ে পালিয়ে গেছে চার লাখ মানুষ। আল জাজিরা।
ইত্তেফাক/সাব্বির