বকেয়া বেতন পরিশোধ ও নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা গতকাল বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছে। এরমধ্যে খুলনায় সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্যসহ নরসিংদীতে আহত হয়েছে ৬০ ট্রেনযাত্রী। গতকাল ৯ দফা দাবিতে পাটকলের শ্রমিকদের ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট এবং রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচির শেষ দিন ছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন বলেন, আগামী ৭ এপ্রিল ঢাকায় বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকলের শ্রমিক নেতারা বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। ব্যুরো অফিস ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর-
রাজধানীর ডেমরা গতকাল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে লতিফ বাওয়ানি ও করিম জুট মিলের শ্রমিকরা। সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকরা স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তারা টায়ার ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। অবরোধের কারণে বেশ কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। দুপুর ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, গতকালও বিক্ষোভ মিছিল ও রেলপথ, সড়ক অবরোধ, ভাংচুর করে নরসিংদীর পাটকল শ্রমিকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়ে কিশোরগঞ্জ, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামগামী রেলের যাত্রীরা। সকাল সাড়ে ১০ টায় পাটকল শ্রমিকলীগ ইউইমসি শাখার কয়েক হাজার শ্রমিক রেল সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় শ্রমিকরা তরোয়া-বাসাইল এলাকায় রেল লাইনে গাছ ফেলে এবং রেল লাইনের উপর শুয়ে পড়ে। এ সময় ৪নং ডাউন কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকা পড়ে। উত্তেজিত শ্রমিকরা লাঠি সোটা এবং রেলের পাথর দিয়ে ট্রেনের ওপর হামলা করে। এতে ট্রেনের জানালা এবং কাচ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়। পাথরের আঘাতে প্রায় ৫০-৬০ জন ট্রেনযাত্রী আহত হয়।
খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে গতকাল সংঘর্ষে ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (ওসি) আবুল বাশার, নগর বিশেষ শাখার কনস্টেবল মো. মনিরুজ্জামান মনির ও মো. রাতুল এবং পুলিশ কনস্টেবল মো. রায়হান আহত হয়েছেন। এসময় বেশ কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করে শ্রমিরা। খবর পেয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিক্ষুব্ধ পাটকল শ্রমিকরা সকাল ৬টা থেকে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করে নগরীর নতুন রাস্তা মোড়ে বিক্ষোভ করে। এদিকে শ্রমিকরা নগরীর খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থান নিয়ে খুলনা-যশোর মহাসড়ক, নতুন রাস্তা মোড় থেকে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সড়ক, বিআইডিসি সড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করে। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। ক্রিসেন্ট জুটমিল সিবিএ সভাপতি ও পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহবায়ক মুরাদ হোসেন বলেন, বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী ন্যায়সঙ্গত দাবিকে নস্যাত্ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (আরসিডি) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। হামলার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। খুলনায় ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, গতকালও রেলপথ ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চট্টগ্রামের পাটকল শ্রমিকরা। নগরীর বায়েজিদ থানার আমিন জুট মিল এলাকায় সড়ক পথ ও চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রুটের রেল লাইন অবরোধ করে আন্দোলন করেন শ্রমিকরা। এসময় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।