রাজধানীর বনানীতে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার একমাত্র আসামি বাহাউদ্দিন ইভানকে(২৮) গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ধর্ষণের অভিযোগ কারী তরুণীকে উইমেন ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড সাপোর্ট বিভাগে নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হবে।
বনানী থানার পরিদর্শক(তদন্ত)আব্দুল মতিন জানান, অভিযুক্ত ওই যুবককে খুঁজে পাওয়া যায়নি।বুধবার রাতেই বনানীতে তার বাসায় অভিযান চালানো হয়েছিলো।
গত ৪জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে বনানীর ২নম্বর রোডের ন্যাম ভিলেজের ৫/এ নম্বর বাসায় পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই তরুণীকে ইভান ডেকে নেয়। বলা হয় ওইদিন রাতে তার বাসায় জন্মদিনের অনুষ্ঠান রয়েছে।এগার মাস আগে ফেসবুকে ইভানের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়।চার মাস আগে থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।জন্মদিনের অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিশ্বাস আনার জন্য ইভান একজন মহিলাকে দিয়ে ওই তরুণীর মোবাইলে কথা বলিয়ে দেন।বলা হয় ওই মহিলা ইভানের মা। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আসলে তার মায়ের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে।
ওই দিন রাতে তরুণী ইভানের বাসায় গেলে ওই বাসায় ইভান ছাড়া আর কাউকে তিনি দেখতে পাননি।পরে বাসা থেকে চলে আসতে চাইলে তাকে বলা হয় তার বাবা-মা অসুস্থ তারা পাশের রুমে ঘুমাচ্ছে।ওইদিন রাতে ইভান তাকে খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি মাদক সেবন করায়।পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে ইভান তরুণীর ভ্যানিটি ব্যাগ রেখে দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয়।ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তরুণী একব্যক্তির সহায়তায় বনানী থানায় উপস্থিত হন।পরে বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বনানী থানায় ওই মামলা রুজু হয়।মামলায় ইভানের ঠিকানা দেয়া রয়েছে।পিতার নাম বোরহান উদ্দিন বেলাল।চাঁদপুরের মতলব থানার মহনপুর গ্রামে তাদের বাড়ি।
উল্লেখ্য, বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে গত ২৮ মার্চ দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। ও ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, রেগনাম গ্রুপের পরিচালক সাদমান সাকিফ, ই-মেকার্স বাংলাদেশ লি. মালিক নাঈম আশরাফ ওরফে হাসান মুহাম্মদ আব্দুল হালিম, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলীও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করে।বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর