কুড়িল বিশ্বরোডকে মডেল সড়ক গড়ে তুলতে কাজ করছি ---- মেয়র আতিকুল ইসলাম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, আমরা মালিবাগ থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়ককে মডেল সড়ক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছি। এর প্রতিটি জেব্রাক্রসিংয়ে পুশ বাটন ও ফ্লাশলাইট স্থাপন করা হবে। তাছাড়া সড়ক বিভাজকে ফেন্সিং স্থাপন করা হচ্ছে যাতে কেউ যত্রতত্র রাস্তা পার হতে না পারে। বাস থামার জন্য নির্ধারিত স্টপেজ ও যাত্রী ছাউনি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথাও বাস থামতে পারবে না। গতকাল ডিএনসিসি’র নগর ভবনে নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেয়রের এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। 

মেয়র বলেন, বাস ফ্রেঞ্চাইজের কাজ আগামী দুই বছরের আগেই সমাপ্ত হবে। যানবাহনের ফিটনেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তিনি অনুরোধ জানান। তাছাড়া যানবাহন চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। চালকদের ডোপ টেস্ট চালু করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও মেয়র বৈঠকে অবহিত করেন। শীঘ্রই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ বাস মালিক সমিতির সঙ্গে সভা করে চুক্তিভিত্তিক বাস চালানোর প্রথা বাতিল করা হবে বলে তিনি জানান।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে- ফুটওভারব্রিজ না বসিয়ে জেব্রাক্রসিং স্থাপন, প্রতিটি জেব্রাক্রসিংয়ে সিসিটিভি স্থাপন, ২০২০ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো, ডিজিটাল ট্রাফিক সিগনাল স্থাপন, ৬টি বাস কোম্পানির মাধ্যমে ফ্রেঞ্চাইজের দ্রুত বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত ড্রাইভিং স্কুল স্থাপন, চুক্তিভিত্তিক বাস চালানো বন্ধ করা ও লাইসেন্সবিহীন চালককে দিয়ে বাস চালানো মালিকের বিচার করা। মেয়র শিক্ষার্থীদের এসব দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ যুবায়ের সালেহীন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক বিভাগ) মীর রেজাউল আলম প্রমুখ।