খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাতের মামলায় মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন মোল্লা ওরফে অনু মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে দুদক। বুধবার বিকেলে তাকে গাজীপুর আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন মোল্লাকে গাজীপুরের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে ওই আদালতের বিচারক ফারাহ মামুন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর কালিয়াকৈর উপজেলার গেসাত্রা গ্রামের মোজাম্মেল হক খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে আটাবহ ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লাসহ দুইজনকে আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। মঙ্গলবার রাতে দুদক সাভার এলাকা থেকে চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লাকে গ্রেফতার করে। বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান গ্রেফতারকৃত চেয়ারম্যানকে আদালতে পাঠান।
বাদী মোজাম্মেল হক এজাহারে উল্লেখ করেন, আটাবহ ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল শতাধিক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে চাল বিতরণের জন্য কোন কার্ড বিতরণ না করে ওই চেয়ারম্যান ও তার এক সহযোগীর সহায়তায় ইউনিয়নের তিনজন ডিলার বিতরণের রেজিস্টারে ও অন্যান্য কাগজপত্রে মৃত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর দেখিয়ে চাল আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া শতকরা ২০ভাগ লোক কার্ড পেয়েছে এবং বাকি ৮০ ভাগ লোকের কার্ড ডিলারের নিকট জমা রয়েছে। যাদের নামে কার্ড আছে তারা নিজেরাই জানে না বিতরণের কার্ড হয়েছে এবং তা ডিলারের নিকট জমা আছে। ওই দুই বিবাদী ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ওই চাউল বিতরণ না করে বেশি দামে বিক্রি করে দিয়েছে। তাছাড়া শতকারা ২০ ভাগ লোক কার্ড পেলেও তারা ১০, ১৫ ও ২০ কেজির বেশি চাল পায়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে ডিলাররা কার্ড বিতরণ বন্ধ করে দেয়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের চাল না পেলেও কার্ডধারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বাক্ষর/টিপসই নেয়ার চেষ্টা করে।
ইত্তেফাক/জামান