মেরুল বাড্ডা, দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তর বাড্ডা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। ওয়ার্ডে প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। ভোটার ১ লাখের কাছাকাছি। আয়তন ১ দশমিক ৪৪৯ বর্গকিলোমিটার।
ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন সড়ক ভাঙাচোরা। ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট। সামান্য বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এর সঙ্গে আছে মশার উত্পাত। ওয়ার্ডে নেই খেলার মাঠ, সরকারি কমিউনিটি সেন্টার।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর বাড্ডার গুপীপাড়া সড়ক একেবারেই বেহাল। একটু পর পর ছোট-বড় গর্ত। হাঁটার সুবিধার জন্য সড়কে ফেলা হয়েছে ইট-সুরকি। এছাড়া স্বাধীনতা সরণি, হোসেন মার্কেটের পেছনের রাস্তা, লেকভিউ রাস্তা, গালর্স স্কুল রোড, খানবাগ মসজিদ রোড, সোনামিয়া মাতবর রোড, গুপীপাড়া রোড, গির্জা রোড, বৈশাখী সরণি, কানু মিয়ার পুকুর রোড, দক্ষিণ বাড্ডা বাজার রোড এবং মধ্য বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা ও পশ্চিম মেরুল এলাকার বিভিন্ন সড়কও বেহাল।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেরুল বাড্ডা বাসস্ট্যান্ড থেকে উত্তর বাড্ডা গুপীপাড়া পর্যন্ত প্রগতি সরণির প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে দু’পাশের ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট। ফুটপাত দখলে থাকায় পথচারীদের যানবাহনের ভিড়ে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে।
মধ্য বাড্ডার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, রাস্তার দু’পাশের ফুটপাতের পুরোটাই দখলে চলে গেছে। একটু নিশ্চিন্তে হাঁটবো, সেই অবস্থা নেই। সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় কখন গাড়ি ধাক্কা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওয়ার্ডের অন্যতম সমস্যা জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। অনেক সময় এক সপ্তাহেও পানি সরে না। টানা বৃষ্টি হলে বাসা-বাড়িতে পানি উঠে যায়।
মেরুল বাড্ডার একাধিক বাসিন্দা বলেন, মশার উত্পাতে এলাকার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। রাতে তো আছেই, দিনেও থাকে মশার উত্পাত। উত্তর সিটির কর্মীদের নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটাতেও দেখা যায় না।
পশ্চিম মেরুল বাড্ডার গৃহিণী লীনা হোসেন বলেন, মশার যন্ত্রণায় শান্তি নেই। সন্ধ্যায় বাচ্চারাও ঠিকমতো পড়তে পারে না। তিনি বলেন, এলাকায় এত মশা যে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের আতঙ্কে আছেন। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকার লোকজনও মশার উত্পাতের কথা বলেছেন।
মেরুল বাড্ডা এলাকায় পানি ও গ্যাসের সমস্যা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেক বাসিন্দা। ওয়ার্ডে নেই কোনো খেলার মাঠ, সরকারি কমিউনিটি সেন্টার। স্থানীয় লোকজন বলেন, কাউন্সিলর নির্বাচনের আগে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দুই বছরে কমিউনিটি সেন্টারের জন্য জায়গাও ঠিক করা সম্ভব হয়নি। খেলার মাঠ না থাকায় অনেক তরুণ-যুবক আড্ডা দিয়ে সময় কাটান। অনেকে বিভিন্ন নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন।
ইত্তেফাক/এমআই