দেশের সর্বোচ্চ আদালতে অসহায় অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীরা এখন সরকারী খরচে আইনি সেবা পাচ্ছেন। যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকারের ইতিবাচক প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের সমন্বয়কারী রিপন পল বলেন, ‘গরিব-দুঃখীর বিচার পাওয়ার অধিকার, বর্তমান সরকারের অঙ্গিকার” সরকারের এ স্লোগানকে সার্থক করে তুলেছে লিগ্যাল ‘এইড উদ্যোগ।’ সরকারি আইনি সেবার অধীনে নিষ্পত্তিকৃত একটি মামলা বিষয়ে রিপন পল এ তথ্য দেন।
তিনি বলেন, ওয়ারী-সূত্রাপুরে বসবাসকারী মোমেন খান ১৯৫৬ সাল থেকে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে ৩.৭৫ শতাংশ জমি নিয়ে মামলা পরিচালনা করেন। মোমেন খানের মৃত্যুর পর তার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী মনসুরুজ্জামান খান (৫৬) মামলা পরিচালনার হাল ধরেন। একে একে প্রত্যেকটি আদালতে মামলায় জয় লাভ করেও জমি দখলে নিতে পারছিলেন না। হাইকোর্ট বিভাগেও তার পক্ষে রায় আসে। কিন্তু প্রতিপক্ষ আবার সর্বশেষ ফোরাম সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে ‘লিভ-টু-আপিল’ দায়ের করেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়াতে আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনা করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।
রিপন পল জানান, এ অবস্থায় মনসুরুজ্জামান খান জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের অধীনে সরকারি খরচে পরিচালিত সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করেন গত বছরের ৯ নভেম্বর। সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি তার মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। মামলাটি পরিচালনায় সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিনকে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থী মনসুরুজ্জামান খানের মামলা পরিচালনায় নিয়োগ দেয়া হয়। আইনি লড়াইয়ে আপিলে মনসুরুজ্জামান রায় লাভ করেন। এতে তিনি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করেন।
রিপন পল বলেন, এতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বশেষে সরকারি আইনি সেবার মাধ্যমে তিনি তার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করেন। এভাবে আরো অনেকেই আর্থিক সঙ্গতি না থাকলেও সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে অধিকার নিশ্চিত করতে পারছেন। উচ্চ আদালতে এখন বিচারপ্রার্থী যে কোন অসচ্ছল নাগরিক জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের অধীনে সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করছেন এবং লিগ্যাল এইড কমিটি বিচারপ্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।
আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০০ সালে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন অনুযায়ী আইনগত সহায়তা সংস্থা গঠন করে। সুপ্রিমকোর্ট থেকে দেশের সকল আদালত, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই সেবা প্রসারিত করা হয়েছে। অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ সেবার কার্যক্রম জোরদারে দেশব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বাসস।
ইত্তেফাক/এমআর