তখনো ঝুমুর সেলফোনে টাচ করে লোকেশন দেখছিল। পাঠাও এসে ওর পাশ ঘেঁষে থামল। বসুন্ধরা ঢোকার মুখে প্রগতি সরণি থেকে ঝুমুর পাঠাও-এর সিটে উঠে বসল। ছেলেরা যেভাবে দুদিকে দুপা দিয়ে বসে, ঝুমুরও সেভাবে বসল। ওঠা ও বসার ভঙ্গি দেখে চালক থ মেরে গেল। ঝুমুর বলল, কী হলো, চলুন?
চালক চালাতে চালাতে জিজ্ঞেস করল, কোথায় যাবেন ম্যাডাম?
: আমাকে ম্যাডাম বলার দরকার নেই। আমি একটা পিচ্চি মেয়ে।
চালক মনে মনে বলল, সেয়ানা পিচ্চি। না হলে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, সিলসিলা টাইট টপস, পার্পেল কালার বড় সানগ্লাস—এসব পরে নাকি কেউ? চালক একটু বিরক্তভাবে বলল, কোথায় যাবেন বললেন না?
: কাকরাইল।
: কাকরাইল কোথায়?
: কেন? কাকরাইল চেনেন না?
: চিনি। মানে জানতে চাচ্ছি কাকরাইলের কোথায়?
: আমি চিনিয়ে নেব।
এতক্ষণ ঝুমুর ওর হাত দুটি দিয়ে চালকের কোমর ধরে রেখেছিল। এবার আস্তে আস্তে বুকের ওপর নিয়ে চেপে ধরল। সেইসঙ্গে নিজের বুকও চালকের পিঠে ঠেকিয়ে ধরল। চালক ভীষণ বিরক্ত। বলল, একি করছেন? আমাকে এভাবে ধরছেন কেন?
: আমার ভয় করে। মোটরসাইকেলে ওঠার অভ্যাস নেই।
: তাহলে উঠেছেন কেন?
: আমার ইন্টারভিউ আছে। দেরি হবে বলে আপনাকে বেছে নিয়েছি।
: আমাকে মানে?
: মানে পাঠাওকে।
এবার ঝুমুর আরো শক্ত করে ধরে। চালক ইচ্ছাকৃতভাবে জোরে ব্রেক করে। ঝাঁকি খেয়ে ঝুমুর তার পিঠের ওপর পড়ে। চালক বলল, এটা কিন্তু ভালো হচ্ছে না।
: বা রে, আপনিই তো ব্রেক করে আরো ইয়ে করার চেষ্টা করছেন। শুনুন, তাড়াতাড়ি চালাবার দরকার নেই। এখন আমার হাতে যথেষ্ট সময় আছে, এগারোটার জায়গায় বারোটায় গেলেও সমস্যা নেই। আমাকে দেখে নিশ্চয়ই ওরা পছন্দ করবে।
: কিসের ইন্টারভিউ?
: অভিনয়। আমি সিনেমার নায়িকা হব। অবশ্য আপনাকেও হিরো-হিরো লাগছে। যাবেন নাকি?
: কোথায়?
: ইন্টারভিউ দিতে।
: আমি বিয়ে করেছি। বউ-বাচ্চা আছে।
: এক্সপেরিয়েন্স আছে।
: মানে?
: মানে আমি চালানোর কথা বলছি। খুব ভালো চালাতে পারেন আপনি। অভিজ্ঞতা আছে। যদি এই পাঠাও না থাকে তখন কী করবেন?
: তার মানে?
: এই ধরুন পাঠাও যদি বন্ধ করে দেয়া হয় তখন কী করবেন? যেমন বেবি ট্যাক্সি, মিশুক এসব তো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, যদি সেরকম কিছু হয়?
: আপনার ড্রাইভারি করব। আপনি খুব ভালো একটা মেয়ে।
: মোবাইল নাম্বারটা দিন।
: বলছি, সেভ করে নিন।
রাত সাড়ে এগারোটায় চালকের ফোন বেজে উঠল। ঝুমুর বলল, আমাকে চিনতে পেরেছেন? বারো ঘণ্টা আগে আপনার সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়েছিল।
: আপনি সেই নায়িকা?
: নায়িকা হতে পারিনি। চান্স পাইনি। এইমাত্র জানলাম। তাই আপনাকে ফোন দিলাম যে কাল আবার ইন্টারভিউ দিতে যাব। আপনি নিয়ে যাবেন তো?
চালক তার পিঠের ওপর কিসের যেন সুড়সুড়ি অনুভব করল।