ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের পর ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি

 
রাজধানীতে ভুয়া ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। 
 
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন। 
 
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়- গ্রেফতারকৃতরা ২ থেকে ৩ টা ছোট দলে বিভক্ত হয়ে কেউ ব্যাংকে অবস্থান করে টাকা উত্তোলনকারী গ্রাহকদের সম্পর্কে ব্যাংকের বাইরে অবস্থানকারী দলের কাছে তথ্য দেয়। ব্যাংকের বাইরে থাকা দল গ্রাহকদের অনুসরণ করে এবং গাড়িতে থাকা দলকে সুবিধা মতো জায়গায় থাকতে বলে। গ্রাহক ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে গাড়িতে থাকা ডাকাত দলের সুবিধা মতো জায়গায় আসলে ডাকাতদল তাদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোর করে গাড়িতে তুলে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে চোখ বেঁধে ফেলে। মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে গাড়ি নিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে থাকে। ভিকটিমের নিকট থাকা সমস্ত টাকা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় অথবা চোখে মলম লাগিয়ে সুবিধামত জায়গায় নামিয়ে দেয়।
 
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বারেক মিয়া, গফ্ফার আহমেদ, মনির হোসেন, রাসেল বর্ষ ওরফে বর্ষা, আল আমিন ওরফে দিপু, মোর্শেদ ওরফে মিন্টু, সবুজ হোসেন শ্যামল, ওরনি আলম ওরফে ওরনী, রিয়াজ, মেহেদি হাসান ওরফে মেহেদি, গাড়িচালক নাজমুল হাসান ওরফে এরশাদ ও আরমান হোসেন। 
 
এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি ভর্তি ২টি ম্যাগাজিন, একটি কাঠের লাঠি, একটি প্লাস্টিকের তৈরি কালো রংয়ের ওয়াকিটকি সদৃশ ওয়াকিটকি, ২টি হ্যান্ডকাপ, ২টি স্টেনলেস স্টিলের ধারালো চাকু, একটি চওড়া স্কচটেপ, একটি গামছা, একটি ডিবি জ্যাকেট এবং একটি সিলভার কালারের নোয়া মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।
 
উল্লেখ্য, জনৈক মো. মনির হোসেন এবং মহিউদ্দিন গত ৬ জুলাই ব্রাক ব্যাংক ধোলাইপাড় শাখা হতে ৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা উত্তোলন করে রিকশায় যাওয়ার সময় সায়েদাবাদস্থ ন্যাব ইনকর্পোরেশন নামক দোকানের সামনে থেকে ডিবি পরিচয়দানকারী আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের জোড় করে গাড়িতে উঠায় এবং চোখ বেঁধে মারধর করে ব্রাক ব্যাংক থেকে উত্তোলিত এবং সাথে থাকা ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং একটি স্যামসাং মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের সাইনবোর্ড গিরিধারায় গাড়ি থামিয়ে নামিয়ে দেয়। ধৃত ডাকাত মো. বারেক মিয়ার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার স্ত্রী সাম্মী আক্তারের হেফাজত হতে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। 
 
ইত্তেফাক/কেকে