আট শিক্ষার্থী বহিষ্কারের জেরে বশেমুরবিপ্রবি'র ইংরেজি বিভাগ অচলাবস্থা

 
ইংরেজি বিভাগের এমএ শেষ পর্বের আট শিক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
 
শিক্ষার্থীরা নিঃশর্তে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার সহ ছয় দফা দাবিতে ক্লাস বর্জন করে ইংরেজি বিভাগের সামনে মঙ্গলবার বিক্ষোভ প্রদর্শন ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে। আন্দোলনরত ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলন প্রত্যাহার না করলে তাদের ক্লাস ও পরীক্ষায় বসতে দেয়া হবে না বলে শিক্ষকরা হুমকি দিচ্ছেন। শিক্ষকরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনে বলেছেন, 'ক্লাস করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসতে তারা বাধা দিচ্ছে।'
 
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, ফেসবুকে লেখালেখির ঘটনায় এমএ শেষ পর্বের শিক্ষার্থী চয়ন মল্লিককে গত ৩১ মে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করতে বলে। চয়ন ১জুন নোটিশের জবাব প্রদান করে। কারণ দর্শানের তিন দিনের মধ্যে চয়নের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু দেড় মাস অতিক্রান্ত হলেও তা দেয়নি। এ ছাড়া এমএ প্রথম পর্বের স্থগিত পরীক্ষা দ্রুত গ্রহণের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।  সোমবার ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগের সব ক্লাস রুমে তালা দিয়ে নিঃশর্তে চয়নের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার ও স্থগিত পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একাডেমিক কমিটি ওই বিভাগের এমএ শেষ পর্বের শিক্ষার্থী জাবির আহম্মেদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মাহবুবুর রহমান রোমান , মনিরা ইয়াসমিন, সজল সরকার, আজাদ আলী ও মাসুদ রানাকে বহিষ্কার করে।
 
ইংরেজি বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান ভুইয়া বলেন, 'চয়ন ফেসবুকে আমাকে ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ে পরীক্ষার মধ্যে অশোভন লেখালেখি করেছে। এ কারণে তাকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। পরে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ থাকায় গত ১ জুনের পরীক্ষা ৪ জুন নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ৪৮ শিক্ষার্থী ৪ জুনের পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। পরে তারা ৭ জুন ও ৯ জুনের পরীক্ষায়ও অংশ গ্রহণে বিরত থাকে। চয়নের  বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার না হলে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না বলে জানায়।
 
ইত্তেফাক/জামান