মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোতে বাড়ছে দুর্ঘটনা

পর্যটকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি

 মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঘটনা। ঝরনায় গোসল করতে গিয়ে কিংবা পাহাড়ের চূড়া থেকে পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও ঝরনাগুলোতে প্রশাসনের নেই কোনো প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ। গত ৩ বছরে মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোতে বিভিন্ন সময় অন্তত ৮ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

মিরসরাইয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে রুপসী, নাপিত্তাছড়া, খৈয়াছড়া, মহামায়াসহ ছয়টি বড় ঝরনা রয়েছে। এর পাশাপাশি বাওয়াছড়া ঝরনা, কমলদহছড়া, সোনাইছড়ি ঝর্ণা, সহস্ত্রধারাসহ রয়েছে আরো অন্তত ডজনখানেক ঝরনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের কারণে এসব ঝরনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে পর্যটকরা। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার খৈয়াছড়া ঝরনার উপরের পাহাড় থেকে পা ফসকে পড়ে মারা যায় ফটিকছড়ি উপজেলার জাফতনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের ছেলে আশরাফ হোসেন (৩০) । তাদের বাড়ির ১১ জন সদস্যকে নিয়ে খৈয়াছড়া ঝরনায় বেড়াতে এসেছিলেন আশরাফ। গত ১৭ জুলাই মহামায়া লেকে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয় শাহাদাত হোসেন (২২) নামে এক যুবক। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ১৯ জুলাই শাহাদাতকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। গত ১৫ আগস্ট নয়দুয়ারিয়ার নাপিত্তাছড়া ঝরনার কুণ্ডে ডুবে অনিমেষ দে (২৭) নামে এক পর্যটক নিহত হয়। গত ২৪ আগস্ট দক্ষিণ ওয়াহেদপুর রূপসী ঝরনায় উপর থেকে পড়ে গিয়ে মারা যায় বাঁশবাড়িয়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। ১৫ জুলাই খৈয়াছড়া ঝরনার সাতটি স্তরের ৫ম স্তরে উঠার পর স্থানীয় এক পর্যটক পা পিছলে পড়ে যাওয়ার সময় তাকে ধরতে যায় ওয়াসিম আসগর। ওই পর্যটক সামান্য আঘাত পেলেও ওয়াসিম পাহাড়ের নিচে পড়ে যায়। এতে মারাত্মক আহত হয় সে। এছাড়া নাপিত্তাছড়া ঝরনায় সাঁতার কাটার সময় চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ-র শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন মামুন (২২) মারা যায়।

বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি) সভাপতি মো. সরওয়ার উদ্দিন বলেন, আমরা পর্যটকদের জন্য সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করেছি। খৈয়াছড়া, সহস্ত্রধারা, নাপিত্তাছড়া, লবণাক্ষছড়া, বাওয়াছড়া, কমলদহ ছড়া, সোনাইছড়া ঝরনা এলাকায় নিরাপদে যাওয়ার জন্য ২০ জন ইকো গাইডকে নিয়োগ দিয়েছি। পর্যটকরা যদি ঝরনা এলাকায় যাওয়ার সময় ইকো গাইডদের সাথে নিয়ে যায় তাহলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, মূলত দায়িত্বহীনতা ও অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা বিপজ্জনক স্থানে না যেতে সতর্ক করে সাইনবোর্ড দিয়েছি। তারপরও পর্যটকরা সেসব স্থানে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। অনেকে ঝরনার উপরে উঠে সেলফি তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায়।

উপজেলা প্যানেল চেয়ারম্যান-২ ইয়াছমিন আক্তার কাকলী বলেন, ঝরনা এলাকাগুলোতে যদি পর্যটন মন্ত্রণালয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে তাহলে প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব। এখানে কোনো নিরাপত্তা না থাকায় ইতোমধ্যে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা পর্যটন এলাকগুলোতে বিপজ্জনক স্থান চিহ্নিত করে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শীঘ্রই সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড লাগিয়ে  দেবো।