তাইজুলের ঘুর্ণিতে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

তাইজুল ইসলামের ঘুর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ জয়ের জন্য ২০৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৭৫ রানের মধ্যে ৮ উইকেট তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা।  

লক্ষ্য তাড়া করতে নামা ক্যারবীয় ব্যাটিং লাইনে এর আগে দুটি জোড়া আঘাত হানেন ও তাইজুল ইসলাম। যে কারণে প্রথম সেশনেই মাত্র ১১ রানে চার উইকেট হারিয়েছে দলটি। আউট হয়ে যান টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যান কাইরন পাওয়েল, শাই হোপ, ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ও রোস্টন চেজ।

দ্বিতীয় সেশনে সুনীল অ্যামব্রিস ও শিমরন হেটমায়ের পঞ্চম উইকেটে জুটি বাঁধেন। ৩৩ রান যোগ করে এই জুটি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠছিল। বিশেষ করে শিমরন হেটমায়ের খেলছিলেন ঝড়ো বেগে। তবে বিপজ্জনক হওয়ার আগেই হেটমায়েরকে (২৭) সাজঘরে পাঠান মেহেদি হাসান মিরাজ।

এরপর ৩০ রানের মধ্যে তাইজুল একে একে আরো তিনটি উইকেট তুলে নেন। সবমিলিয়ে ম্যাচে এ পর্যন্ত ৫ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল। এখন মাঠে আছেন সুনীল আমব্রিস (২২) ও জোমেল ওয়ারিকান। ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে হেটমায়ের ও অ্যামব্রিস ছাড়া কেউ দুই অঙ্ক ছঁতে পারেননি।

এর আগে চট্টগ্রাম টেস্টে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের লিড নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১২৫ রানে অলআউট হয়। তাই সফরকারীদের সামনে জয়ের জন্য এই লক্ষ্য নির্ধারিত হয়।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করে ৩২৪ রান। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয় ২৪৬ রানে। তাই প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের লিড পান সাকিব-মাহমুদউল্লাহরা। সেই লিড নিয়ে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনেই ফের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। তবে ৫৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় দিনশেষ করে তারা।

সেখান থেকেই আজ তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মেহেদি হাসান মিরাজ। দিনের শুরুতেই দলীয় ৬৯ রানে আউট হয়ে যান মুশফিক (১৯)। এরপর সপ্তম উইকেটে মিরাজের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মাহমুদউল্লাহ। এই দুজন ৩৭ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগান।

তবে দলীয় ১০৬ রানে মিরাজ (১৮) ফিরে গেলে সেই আশা আর দানা বাধতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১২৫ রান করে দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে। মাহমুদউল্লাহ ইনিংস সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন। ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে দেবেন্দ্র বিষু চারটি, রোস্টন চেজ তিনটি এবং জমেল ওয়ারিকান দুটি করে উইকেট নেন।

ইত্তেফাক/কেআই