চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র দাবি করেছে, নরেন্দ্র মোদীর হিন্দু জাতীয়তাবাদ ভারতকে চীনের সঙ্গে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ডেইলি গ্লোবাল টাইমসের ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদ ভারতকে চীনের সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে’ শীর্ষক কলামে বলা হয়, নরেন্দ্র মোদী নির্বাচিত হওয়ায় জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনা শক্তিশালী হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত কলামে বলা হয়, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদি নেতাদের প্ররোচণায় চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধে জড়াচ্ছে ভারত। গ্লোবাল টাইমসের কলামে বলা হয়, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ অত্যুগ্র রূপ ধারণ করলে যে মোদীর সরকার কিছু করতে পারবে না সেটা ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলিমদের উপর সহিংসতা বন্ধে তার ব্যর্থতাতেই প্রতীয়মান।
সেখানে বলা হয়, নয়াদিল্লী চীন ও পাকিস্তানের বিষয়ে পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ভারতের কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদরা দেশটির চীন নীতি জাতীয়তাবাদ কর্তৃক অপহৃত হওয়া ঠেকাতে পারেনি। সিকিম সীমান্তে ভারত-চীন সেনাবাহিনীর একমাস ব্যাপী মুখোমুখি অবস্থানের প্রেক্ষিতে চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমগুলো একের পর এক কথার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তিন দিন আগে গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের উচিত এই মুখোমুখি অবস্থান দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এটা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেয়া এবং এমন আরো সংঘর্ষের ঘটনা পুরো ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায়’ (লাইন অব একচুয়াল কনট্রোল) সর্বময় যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।
চলতি সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর বলেন, চীন এই বিষয়ে অস্বাভাবিক রকম আগ্রাসন প্রদর্শন করছে। ভারত কূটনৈতিক চ্যানেলে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, সব দেশ ভারতকে সমর্থন করছে। তিনি বলেন, ভারত এখন পর্যন্ত অযৌক্তিক কিছু বলেনি, সব দেশ আমাদের পাশে আছে।
চীন গত ১৬ জুন দাবি করে ভারতীয় সেনারা সিকিম সীমান্ত পার হয়ে ডংলাং মালভূমিতে প্রবেশ করে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করে দেয়। চীন এই মালভূমিকে ডংলাং বলে দাবি করে এবং নিজস্ব ভূখণ্ডের অংশ মনে করে। তবে ভুটানও এই ভূখণ্ডকে নিজেদের অংশ মনে করে এবং এই মালভূমিকে ডকলাম মালভূমি নামকরণ করে।
এখানে চীনের রাস্তা নির্মাণকে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি মনে করে ভারত কারণ এতে চীন জাম্ফারি গিরিখাতের সঙ্গে যোগাযোগ উপস্থাপন করতে পারবে। এর ফলে ভারতের সাতটি উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের সঙ্গে সংযোগরক্ষাকারী ‘চিকেন নেক’ চীনের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা সিং স্বরাজ বলেন, যদি এটি ভুটান ও ভারতের বিষয় হত তাহলে আমাদের এটা নিয়ে ভাবার কিছু ছিল না। কিন্তু যেহেতু এটি তিন দেশের সংযোগস্থলে হচ্ছে, এতে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিরোধী দলের নেতারাও বলেছে, সমস্যা সমাধানে সরকারের পদক্ষেপ তারা সমর্থন করবে। এনডিটিভি।
ইত্তেফাক/সাব্বির